প্রস্তাবিত জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া প্রকাশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ। জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কিছুদিন আগে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী প্রভাবসম্পন্ন অধ্যাদেশের খসড়া তড়িঘড়ি প্রকাশকে অনভিপ্রেত ও অযৌক্তিক বলে মনে করছে সংগঠনটি।
রোববার সম্পাদক পরিষদের পক্ষে সভাপতি নূরুল কবীর ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগের কথা জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে হঠাৎ করে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া প্রশ্নবিদ্ধ। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর একটি খসড়া তৈরি করে গত বুধবার মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে, যেখানে মতামত দেওয়ার জন্য মাত্র তিনদিন সময় নির্ধারণ করা হয়। এর আগের দিন সম্প্রচার কমিশন গঠনের লক্ষ্যে পৃথক আরেকটি অধ্যাদেশের খসড়াও প্রকাশ করা হয়। ফলে আলাদা দুটি কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্পাদক পরিষদ উল্লেখ করে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠিত হবে। বর্তমান সরকারের মেয়াদও প্রায় শেষ। এ প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ উপেক্ষা করে তাড়াহুড়া করে দুটি পৃথক কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশনসংক্রান্ত খসড়া অধ্যাদেশ প্রণয়নের সময় ও প্রক্রিয়া সম্পাদক পরিষদকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। নির্বাচন একেবারে সন্নিকটে থাকা অবস্থায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, সাংবাদিকতার পেশাগত মান এবং সম্প্রচারব্যবস্থার ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট আইনের খসড়া যথাযথ আলোচনা ও পর্যালোচনা ছাড়া প্রকাশ করা গ্রহণযোগ্য নয়।
সম্পাদক পরিষদের মতে, প্রস্তাবিত খসড়াগুলোর কাঠামো ও বিধান গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সুরক্ষার পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর আশঙ্কা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি, সীমিত সময়ের মধ্যে মতামত আহ্বান করে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থি।
সংগঠনটি মনে করে, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন নির্বাচিত সংসদ গঠনের পর সাংবাদিক, সম্পাদক, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিসহ সব অংশীজনের সঙ্গে বিস্তৃত ও অর্থবহ আলোচনার মাধ্যমে হওয়া উচিত। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তড়িঘড়ি নয়, বরং স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও দায়িত্বশীল প্রক্রিয়াই দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সর্বোত্তম।



