অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দুর্বল ভেবে কিছু রাজনৈতিক দল পরিস্থিতি ঘোলাটে করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি সতর্ক করে বলেন, গণভোটের আড়ালে পতিত, পরাজিত ও পলাতক অপশক্তিকে পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে কি না, তা নজরে রাখতে হবে।
বুধবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্রও প্রদর্শিত হয়।
তারেক রহমান বলেন, “জুলাই সনদে যা অঙ্গীকার করা হয়েছে, বিএনপি তা রক্ষা করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে কেউ যদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দুর্বল ভেবে যা ইচ্ছা তাই আদায় করতে চায় বা বিএনপির বিজয় ঠেকাতে অপকৌশল নেয়, তা শেষ পর্যন্ত তাদের নিজেদের জন্যই রাজনৈতিক বিপর্যয়ের কারণ হবে।”
তিনি বলেন, “রাজপথের সঙ্গী যারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করছেন, তারা যেন এমন কাজ থেকে বিরত থাকেন। স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান বলেছিলেন— ‘জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।’ আজও সেই কথাই সত্য।”
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের সময় নির্ধারিত হয়েছে। এখন সরকারকেই ঠিক করতে হবে— তারা কি একটি দলের ইচ্ছা পূরণ করবে, নাকি গণতন্ত্রকামী জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক নির্বাচন আয়োজন করবে।
গণভোটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেশে এবার প্রায় এক কোটি ১৫ লাখ টন আলু উৎপাদন হয়েছে। অথচ আলুচাষিরা উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না। প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা। রাষ্ট্র যদি গণভোট আয়োজন করে, তাতে প্রায় সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে। এমন পরিস্থিতিতে গণভোট নয়, আলুচাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাই বেশি জরুরি।”
একইভাবে তিনি বলেন, জনগণের টাকায় গণভোট করার চেয়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য আধুনিক গুদাম নির্মাণ এখন বেশি প্রয়োজন। দেশের অর্থনীতি, শিক্ষাখাত, গার্মেন্টস শ্রমিকদের দুরবস্থা ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ইস্যুই আজ গণভোটের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কিছু রাজনৈতিক দল নানা শর্ত আরোপ করে নির্বাচনে বাধা সৃষ্টি করছে। এতে একদিকে নির্বাচন বিলম্বিত হচ্ছে, অন্যদিকে পতিত ও পলাতক স্বৈরাচারের পুনর্বাসনের পথ সুগম হচ্ছে।”
সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “দেশে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় এবং উদ্দেশ্যমূলক। এর লক্ষ্য হচ্ছে গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথকে বাধাগ্রস্ত করা। তাই এখন সময় এসেছে জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার।”



