tanaka

মেরুল বাড্ডায় রাজউকের দেড় হাজার কোটি টাকার জমি ২১ বছর ধরে দখলে

রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় রাজউকের প্রায় ১১ একর জমি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জমিটির বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। একই জমিকে ঘিরে প্রায় ছয় হাজার মানুষের কাছ থেকে ৩০০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
প্রচ্ছদসারাদেশখালাস পেলেন মা-মেয়ে, অভিযোগ—‘ইফতারের সময় পানিটুকুও দেয়নি পুলিশ’

খালাস পেলেন মা-মেয়ে, অভিযোগ—‘ইফতারের সময় পানিটুকুও দেয়নি পুলিশ’

কক্সবাজারের পেকুয়ায় ঘুসের টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে এক কলেজছাত্রী ও তার মাকে থানায় মারধর এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দেওয়া এক মাসের সাজা বাতিল করে তাদের খালাস দিয়েছেন আদালত।

শনিবার (৭ মার্চ) কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিদুল আলম এ আদেশ দেন। কারাগার থেকে মুক্তির পর মা-মেয়ে বর্তমানে একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর আগে বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে পেকুয়া থানা পুলিশ তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

খালাস পাওয়া মা-মেয়ে হলেন রেহেনা মোস্তফা রানু (৪২) এবং তার মেয়ে জুবাইদা বেগম (২১)। জুবাইদা চকরিয়া সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাদের বাড়ি পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের সরকারি ঘোনা এলাকায়।

কারাগার থেকে মুক্তির পর রেহেনা মোস্তফা অভিযোগ করেন, ঘুসের টাকা ফেরত চাওয়ায় পুলিশ তাদের থানায় ডেকে নিয়ে মারধর করে। তিনি বলেন, থানার একটি কক্ষে উপ-পরিদর্শক (এসআই) পল্লবসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাদের লাথি-ঘুসি মারেন। এতে মা-মেয়ে দুজনই রক্তাক্ত হয়ে পড়েন।

রেহেনার দাবি, মারধরের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম থানায় আসেন। তারা তার কাছে পুলিশের নির্যাতনের কথা জানান। কিন্তু রক্তাক্ত অবস্থায় দেখেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে কিছুক্ষণ পর সবাই সেখান থেকে চলে যান।

তিনি আরও বলেন, পরে পুলিশ তাদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার কথা বলে একটি কালো গাড়িতে তোলে। পথে ইফতারের সময় হলেও তাদের পানি পর্যন্ত দেওয়া হয়নি, যদিও পুলিশের হাতে তখন জুস ও অন্যান্য পানীয় ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রেহেনা মোস্তফা বলেন, তাদের সামনে কোনো বিচারিক কার্যক্রম হয়নি এবং তারা জানতেনও না যে তাদের সাজা দেওয়া হয়েছে। কারাগারে যাওয়ার পরদিন তারা জানতে পারেন যে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাদের এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

কারাগারে নেওয়ার পর তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে প্রথমে কর্তৃপক্ষ তাদের গ্রহণ করতে চাননি। পরে ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর পর তাদের কারাগারে নেওয়া হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জুবাইদার জন্মের পর রেহেনা মোস্তফা ও তার স্বামীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। ২০১৩ সালে জুবাইদার বাবার মৃত্যু হয়। এরপর সম্পত্তির অংশ নিয়ে আত্মীয়দের সঙ্গে বিরোধ শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা করা হলে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় পেকুয়া থানাকে।

অভিযোগ রয়েছে, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পেকুয়া থানার এসআই পল্লব কুমার ঘোষ রেহেনা ও জুবাইদার কাছে ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন এবং পরে ২০ হাজার টাকা নেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পরও তিনি আদালতে জুবাইদার বিপক্ষে প্রতিবেদন দেন বলে অভিযোগ।

পরে টাকা ফেরত চাইতে গেলে মা-মেয়ের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের মারধর করে বলে অভিযোগ। এরপর পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে ইউএনওকে ডেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মা-মেয়েকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের দাবি, যদি সত্যিই পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটত, তাহলে ফৌজদারি আইনে মামলা করা যেত। কিন্তু তা না করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের মতে, ঘুস গ্রহণ ও নির্যাতনের অভিযোগ আড়াল করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মুক্তির পর মা-মেয়েকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শারীরিক আঘাতের পাশাপাশি তারা মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছেন। বিশেষ করে জুবাইদা মানসিক ধাক্কায় ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না।

কারাগার থেকে মুক্তির পর তাদের শরীরের আঘাতের চিহ্নের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ওসি ও ইউএনও মাহবুব আলম নতুন করে কোনো মন্তব্য করেননি। যদিও এর আগে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুল সাকিব বলেন, শুরুতে তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগের কথা জানানো হয়েছিল। এখন মা-মেয়ের শরীরে যে আঘাতের চিহ্ন দেখা যাচ্ছে, তা কীভাবে হয়েছে—সেটি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।