ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির সব মামলায় ক্ষমা চেয়েছেন। রোববার (৩০ নভেম্বর) তিনি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে ১১১ পৃষ্ঠার আবেদনপত্র পাঠান—এ তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ইসরায়েল।
নেতানিয়াহুর আইনজীবী অমিত হাদাদ প্রেসিডেন্টের দপ্তরে ক্ষমা প্রার্থনার এই ডকুমেন্ট জমা দেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, দুর্নীতি মামলায় ক্ষমা পেলে বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশ পরিচালনায় তিনি আরও মনোযোগী হতে পারবেন। পাশাপাশি এটি দেশজুড়ে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা কমাতেও সহায়ক হবে।
প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, আবেদনটি পর্যালোচনা করে ক্ষমা দেওয়া হবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
চিঠি পাঠানোর পর নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য প্রকাশ্যে তার প্রতি সমর্থন জানান। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে ঐক্যবদ্ধ নেতৃত্ব জরুরি, আর সে জন্য নেতানিয়াহুর ক্ষমা পাওয়া প্রয়োজন। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ দাবি করেন, নেতানিয়াহু বছরের পর বছর “দুর্নীতিগ্রস্ত বিচারব্যবস্থার” শিকার হয়েছেন, তাই তাকে ক্ষমা করা উচিত।
অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার ল্যাপিডসহ সমালোচকরা চলমান বিচার প্রক্রিয়ার মাঝেই ক্ষমা চাওয়াকে অনৈতিক বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, রায় ঘোষণার আগেই ক্ষমা চাইলে আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং প্রধানমন্ত্রী দায় এড়ানোর সুযোগ পেতে পারেন।
নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তিনটি মামলায় ঘুষ, জালিয়াতি ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। এসব মামলার বিচার ২০২০ সালে শুরু হলেও এখনো শেষ হয়নি। ইসরায়েলে সাধারণত রায় ঘোষণার পর প্রেসিডেন্ট ক্ষমা দিয়ে থাকেন; যদিও রায় ছাড়া ক্ষমা দেওয়া সম্ভব—কিন্তু এমন নজির অত্যন্ত বিরল।



