tanaka

এশিয়ান গেমস • কাবাডিতে কোরিয়া বধের পর বাংলাদেশের চোখ পদকে

এশিয়ান গেমসে পুরুষ কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে লাল-সবুজ দল এখন তাকিয়ে আছে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচের দিকে। বিকেলে চাইনিজ তাইপেকে...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিককিয়েভের প্রতিরক্ষায় নতুন প্রযুক্তি

কিয়েভের প্রতিরক্ষায় নতুন প্রযুক্তি

প্রায় চার বছর ধরে চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত অবসানে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও আলোচনা কার্যত আলোচনার টেবিলেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এর ফলে উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রেখেছে।

সম্প্রতি ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর প্রধান ওলেক্সান্দর সিরস্কি দাবি করেন, শান্তি আলোচনায় আগ্রহ না দেখিয়ে মস্কো বরং অস্ত্র উৎপাদন বাড়াচ্ছে। এর মধ্যে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার ড্রোন তৈরির লক্ষ্যও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই বক্তব্যের এক দিন পর গত সোমবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কিয়েভের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের ঘোষণা দেন।

জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী ছোট ছোট মোবাইল দল গঠন করে ইন্টারসেপ্টর ড্রোন মোতায়েনের মাধ্যমে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। তিনি বলেন, ইউক্রেনের বিমানবাহিনী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবহারে নতুন কৌশল গ্রহণ করতে যাচ্ছে, যেখানে মোবাইল ফায়ার গ্রুপ, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন এবং অন্যান্য স্বল্পপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় মৌলিক রূপান্তর ঘটানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নতুন এই কর্মসূচির তদারকির জন্য বিমানবাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে পাভলো ইয়েলিজারভকে নিয়োগ দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাশিয়া একটি বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষায় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে দ্রুত সাড়া দিতে এবং সাধারণ মানুষকে সহায়তা করতে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

চলতি মাসের শুরুতে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় ইউক্রেন এখনো মারাত্মক বিপর্যস্ত। বিশেষ করে রাজধানী কিয়েভে হাজার হাজার অ্যাপার্টমেন্টে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে জেলেনস্কি বারবার আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে পশ্চিমা মিত্রদের কাছে আরও সহায়তা চেয়েছেন।

এর আগে গত রোববার সেনাপ্রধান সিরস্কি বলেন, যুদ্ধের তীব্রতা ক্রমেই বাড়ছে। শত্রুপক্ষ আক্রমণ জোরদার করার পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনসহ অস্ত্র উৎপাদনও বৃদ্ধি করছে। তাঁর মতে, রাশিয়া বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৪০০টি শাহেদ ড্রোন তৈরি করছে এবং ভবিষ্যতে এ সংখ্যা দৈনিক এক হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সিরস্কি আরও বলেন, ইউক্রেনের লক্ষ্য এসব পরিকল্পনা ব্যর্থ করা এবং এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, যাতে শান্তি আলোচনার পথ উন্মুক্ত হয়। কারণ, দুর্বল অবস্থান থেকে কেউ আলোচনায় বসতে আগ্রহী হয় না।

বর্তমানে রাশিয়ান বাহিনী ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড দখলে রেখেছে এবং দেশটির পূর্বাঞ্চলে ধীরগতিতে অগ্রসর হচ্ছে। প্রায় প্রতি সপ্তাহেই নতুন নতুন গ্রাম দখলের ঘোষণা দিচ্ছে মস্কো।