ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপের সফলতার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোযোগ এখন ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডে। চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং গ্রিনল্যান্ডে বিরল খনিজ সম্পদের প্রাচুর্যই এই আগ্রহের মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড এই পরিকল্পনার কড়া বিরোধিতা করলেও ট্রাম্প তার অবস্থান থেকে সরে আসেননি।
গ্রিনল্যান্ড দখলের বিরোধিতা করায় ইউরোপের আটটি দেশের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, গ্রিনল্যান্ড দখলের বিরোধিতা করা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তবে ট্রাম্প যেমন শুল্ক হুমকিতে অটল, তেমনি গ্রিনল্যান্ডের ইউরোপীয় মিত্ররাও তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অনড় অবস্থানে রয়েছে।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, হুমকি দিয়ে কোনোভাবেই এই স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ অঞ্চলের মালিকানা পাওয়া যাবে না। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র গ্রিনল্যান্ডের জনগণ ও ডেনমার্কের জনগণের।
যদিও ট্রাম্প সরাসরি বলেননি যে তিনি গ্রিনল্যান্ড দখলে বলপ্রয়োগ করবেন কি না, তবে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে যুক্তরাজ্যসহ সাতটি ন্যাটো সদস্য দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে। এনবিসি নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এসব দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে, যা ১ জুন থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে। গ্রিনল্যান্ড কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক বহাল থাকবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শুল্ক আরোপের আওতায় থাকা আটটি দেশই ন্যাটোর সদস্য—যে জোটের সবচেয়ে বড় অংশীদার যুক্তরাষ্ট্র নিজেই। ডেনমার্ক সতর্ক করে বলেছে, গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক পদক্ষেপ ন্যাটোর ভবিষ্যৎকেই হুমকির মুখে ফেলতে পারে। এরই মধ্যে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ প্রতীকীভাবে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক দল পাঠিয়েছে।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লক্কে রাসমুসেন বলেন, ট্রাম্পকে বুঝিয়ে দিতে হবে যে শুল্কের হুমকি কোনো সমাধান নয়। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুট্টে জানিয়েছেন, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ইস্যুতে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে জোটটি।
এ পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে জরুরি বৈঠক ডেকেছে। সেখানে ট্রাম্পের সর্বশেষ হুমকি মোকাবিলার কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। ইইউর পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস বলেন, সংঘাতে জড়ানোর আগ্রহ নেই, তবে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তারা দৃঢ় অবস্থানে থাকবে।
এদিকে, ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার জন্য নরওয়েকে দায়ী করলে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার কোনো সরকার নয়, একটি স্বাধীন কমিটি প্রদান করে। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতেও নরওয়ে ডেনমার্কের পাশে থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
অন্যদিকে, নর্থ আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড (নোরাড) জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের পিতুফিক স্পেস বেসে একাধিক উড়োজাহাজ পাঠানো হচ্ছে। এটি নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ এবং ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড সরকারকে অবহিত করেই করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।



