কিউবার উত্তর-পশ্চিম উপকূলের কাছে শক্তিশালী একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় সোমবার সংঘটিত এ কম্পন শুধু কিউবাতেই নয়, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কিছু এলাকাতেও অনুভূত হয়েছে। সাধারণত ভূমিকম্পের ঝুঁকি কম এমন অঞ্চলে কম্পন অনুভূত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ১ এবং এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় ২৬ কিলোমিটার গভীরে। কম্পনের কেন্দ্র ছিল কিউবার মান্টুয়া শহরের পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ১০৪ কিলোমিটার দূরে। রাজধানী হাভানা থেকে এলাকাটি কয়েক ঘণ্টার পথ।
ইউএসজিএসের ভূকম্পবিদ পল আর্লের মতে, ক্যারিবীয় অঞ্চলের এই অংশে এত শক্তিশালী ভূমিকম্প অত্যন্ত বিরল ঘটনা। কারণ এটি কোনো টেকটোনিক প্লেটের সীমান্তে নয়, বরং একটি প্লেটের অভ্যন্তরে সংঘটিত হয়েছে, যেখানে সাধারণত বড় ধরনের ভূমিকম্প কম দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, সোমবারের এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের ৩২২ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সর্বশেষ একই মাত্রার কম্পন রেকর্ড করা হয়েছিল ১৮৮০ সালে। সে সময় কিউবার সান ক্রিস্টোবাল এলাকার কাছে ৬ দশমিক ০ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ফলে বর্তমান ভূমিকম্পটি প্রায় ১৫০ বছরের মধ্যে ওই অঞ্চলের অন্যতম শক্তিশালী কম্পন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটে অবকাঠামোগত দুর্বলতায় ভুগতে থাকা কিউবায় বহু ভবন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফলে ভূমিকম্পের পর নতুন করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এদিকে দেশজুড়ে চলমান বিদ্যুৎ সংকট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র সংগ্রহে সময় লাগছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।



