কানাডার বৃহত্তম শহর Toronto-তে অবস্থিত United States Embassy লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ এবং ইতোমধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) BBC-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
টরন্টো পুলিশ অপারেশনস জানায়, স্থানীয় সময় ভোর প্রায় ৫টার দিকে দূতাবাসের আশপাশে গুলির শব্দ শোনা যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ এলাকা ঘিরে ফেলে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের সুস্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছে বলে জানিয়েছে।
পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে এখনো পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকেও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তার স্বার্থে দূতাবাসের আশপাশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
ঘটনার পর দূতাবাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকতে এবং সন্দেহজনক কোনো কিছু দেখলে পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে ইউরোপের দেশ Norway-এর রাজধানী Oslo-তে গত রোববার United States Embassy-এর বাইরে একটি বিস্ফোরণের ঘটনাও তদন্ত করছে দেশটির পুলিশ। কর্মকর্তাদের ধারণা, এটি সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা হতে পারে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে একটি তাৎক্ষণিক বিস্ফোরক ডিভাইস (আইইডি) ব্যবহার করা হয়েছিল।
তবে ওই বিস্ফোরণে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। নরওয়ের পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করেছে এবং তাকে শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার সঙ্গে এসব ঘটনার সম্ভাব্য কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। বিশেষ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে Iran-এ শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলার পর বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এরই মধ্যে টরন্টো শহরে একাধিক সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। গত এক সপ্তাহে শহরের অন্তত তিনটি ইহুদি সিনাগগে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি ইরান সরকারের সমালোচক একজন ইরানীয়-কানাডীয় নাগরিকের মালিকানাধীন একটি বক্সিং জিমেও গত সোমবার গুলি চালানো হয়েছে।
এসব ঘটনার পর টরন্টোসহ বিভিন্ন শহরে কূটনৈতিক স্থাপনা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এসব ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য বা পেছনের শক্তি সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।



