প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে আজ থেকে কাঙ্খিত সংসদীয় গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা চাই এই মহান জাতীয় সংসদ হোক সকল যুক্তি-তর্ক এবং জাতীয় সমস্যা সমাধানের মূল কেন্দ্রবিন্দু।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দলের সীমা, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তার রাজনীতি মূলত দেশের এবং জনগণের স্বার্থ রক্ষার রাজনীতি। এই লক্ষ্য পূরণের জন্য তিনি গণতান্ত্রিক জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাতীয় সংসদকে কার্যকর কেন্দ্র না বানিয়ে পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকার এটিকে অকার্যকর করে ফেলেছিল। তাই সমৃদ্ধ, নিরাপদ এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় তিনি সকল দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সমর্থন ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনের শুরুতেই সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বৈঠকের সভাপতির নাম প্রস্তাব করার সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো সংসদে বক্তব্য রাখেন। তিনি প্রবীণ রাজনীতিবিদ খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে সংসদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য প্রস্তাব করতে গিয়ে বলেন, “আমাদের সংসদীয় রীতিনীতির ইতিহাসে এই ধরনের প্রেক্ষাপট নতুন নয়। ১৯৭৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানও সংসদের একজন সদস্যকে সভাপতির প্রস্তাব করেছিলেন।”
সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দল, মত বা কর্মসূচি ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু তাবেদারমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত, স্বাধীন, সার্বভৌম ও নিরাপদ স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় আমাদের মধ্যে কোনো বিরোধ থাকতে পারে না। বিরোধ নেই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার অসংখ্য মানুষের কান্না এবং হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আজ থেকে পুনরায় যাত্রা শুরু হচ্ছে জনগণভিত্তিক জাতীয় সংসদের। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম পর্যন্ত যারা শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন বা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, তাদের স্মরণ করা হচ্ছে।
বিগত শাসনামলে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “সব শ্রেণিপেশার মানুষ, যাদেরকে গুম, খুন, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা কিংবা অন্যায়ভাবে বাধা দেওয়া হয়েছিল, তাদের সাহসের ফলে দেশে গণতন্ত্র পুনরায় ফিরে এসেছে। এই সংসদ যাত্রা লগ্নে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকামী বীর ছাত্রজনতাকে অভিনন্দন জানাই।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। দেশের গণতান্ত্রিক শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করেছেন। আজ থেকে আবারও কাঙ্খিত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হলো।”
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি তাঁর উক্তি তুলে ধরেন, “তিনি বলেছিলেন, ‘জনগণই যদি রাজনৈতিক দল হয়, তাহলে আমি সেই দলেরই আছি।’ অর্থাৎ ব্যক্তি বা দলের স্বার্থ নয়, জনগণের স্বার্থই সর্বোচ্চ। এটি আমাদের রাজনীতির মূলনীতি।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “আমি প্রথমবারের মতো বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছি। দলের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, দেশের জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে এখানে আছি। আমার রাজনীতি দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষা করার রাজনীতি। আমাদের লক্ষ্য প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করা এবং একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠন করা। এই লক্ষ্যে আমি সকল দলের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করছি।”
সংসদ যাত্রা শুরুতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী ও শোষণমূলক শাসনের পর, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে আজ এই বিশেষ পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। যারা প্রাক্তন সরকারের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিপীড়িত হয়েছেন, তারা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতির অংশ।”



