জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় আশুলিয়ায় আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা ছয় শহীদের জন্য কিছু করতে না পারায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ তাদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন রাজসাক্ষী শেখ আবজালুল হক।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-২–এ জবানবন্দি শেষে তিনি ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
এদিন আশুলিয়ায় ছয় মরদেহ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ ১৬ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন আবজালুল। তিনি জানান, মরদেহ পোড়ানোর সময় তিনি উপস্থিত না থাকলেও পুরো ঘটনার বিষয়ে অবগত ছিলেন।
জবানবন্দি শেষে তিনি আবারও ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা চান।
চলতি বছরের ২১ আগস্ট এ মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল-২। ওই সময় হাজির আট আসামির সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করলেও এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করেন। পরে লিখিত আবেদনের পর তাকে রাজসাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করা হয় এবং দোষ স্বীকারোক্তির অংশটি রেকর্ড করা হয়।
এর আগে ২১ আগস্ট অভিযোগ গঠনের পর ১৪ সেপ্টেম্বর সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য করা হয়। সেদিন আসামিদের অব্যাহতির আবেদন খারিজ করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পড়া হয়।
গত ১৩ আগস্ট স্টেট ডিফেন্স ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের শুনানি শেষ হয়। সেদিন আট আসামি আদালতে হাজির ছিলেন। তবে পলাতক সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ আরও আটজন উপস্থিত না হওয়ায় তাদের জন্য সরকারি খরচে দুইজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।
গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত এসপি (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, আবজালুল এবং কনস্টেবল মুকুল। আর পলাতক আট আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ২ জুলাই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। এতে ৩১৩ পৃষ্ঠার নথি, ৬২ জন সাক্ষীর তালিকা, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ এবং দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করা হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গ্রহণ করে পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে ছয় তরুণ নিহত হন। এরপর তাদের মরদেহ একটি ভ্যানে তুলে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়। ঘটনার সময় একজন তরুণ জীবিত ছিলেন, কিন্তু তাকে বাঁচানো হয়নি; বরং পেট্রোল ঢেলে জীবন্তই পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা হয়।



