বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জুলাই সনদ স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করেছেন। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো আজ দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখেছে। জাতির প্রয়োজনে, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে সবাই এক হয়ে কাজ করতে পারে—আজ তার বাস্তব উদাহরণ দেখা গেল।”
যেসব দল এখনো সনদে স্বাক্ষর করেনি, তারা ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে যুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর অনুপস্থিতিকে ‘ভুল-বোঝাবুঝি’ হিসেবে দেখছেন বিএনপি মহাসচিব।
মির্জা ফখরুল বলেন, “ঐকমত্য কমিশনে আলোচনার সময় এনসিপি প্রায় সব বিষয়ে ইতিবাচক ছিল। অল্প কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য ছিল, যা আলোচনা করে সমাধান করা যেত। আমি মনে করি, এটা তাদের বিচক্ষণতার অভাব হয়েছে; না হলে তারাও আজ স্বাক্ষর করত।” তবে তিনি এটিকে কোনো বিভক্তি হিসেবে দেখছেন না।
তার ভাষায়, “তারা শিগগিরই বিষয়টি বুঝতে পারবে এবং সঠিক জায়গায় এসে পৌঁছাবে।”
বিতর্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিতর্ক কোনো দেশেই পুরোপুরি দূর হয় না। বরং আমাদের সমাজে বিতর্ককে আমরা পছন্দ করি। তবুও যা অর্জিত হয়েছে, সেটি একটি ‘গ্রেট অ্যাচিভমেন্ট’। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সামনে আরও আলোচনা হবে।”
অন্যদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই সনদ স্বাক্ষরের দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। তাঁর ভাষায়, “যত দিন বাংলাদেশ থাকবে, জুলাই সনদ তত দিন জাতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে থাকবে। এটি শহীদদের আত্মত্যাগ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই আমরা গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশের যাত্রা শুরু করব। এতে রাষ্ট্রের অঙ্গগুলোর মধ্যে ভারসাম্য আসবে এবং কেউ কারো ওপর কর্তৃত্ব করবে না।”
জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে ৩০০ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন। “তাই এখানে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই। তবে প্রধান উপদেষ্টা যদি আলোচনা চান, বিএনপি তাতে বসতে প্রস্তুত,” যোগ করেন তিনি।
এদিকে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এনসিপিসহ কয়েকটি দলের অনুপস্থিতিকে ‘ডিস্টার্বের অংশ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, “কিছু দল ইচ্ছাকৃতভাবে অনুষ্ঠানকে ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। তারা সব সময় এমন আচরণ করে এসেছে।”
তাঁর মতে, জুলাই সনদ গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে একটি বড় পদক্ষেপ। “সব দলের সঙ্গে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে সনদটি তৈরি হয়েছে। শেষ মুহূর্তে কারো না আসাটা এক ধরনের ডিস্টার্বেন্স,” বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সনদে স্বাক্ষর করেন। উপস্থিত ছিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবরসহ বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা।



