উত্তরে ঢাকার মোহাম্মদপুরের দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদরাসার মুফতি ও মুহাদ্দিস আব্দুল কাইয়ুম বলেন, মাদরাসা-মসজিদের ফান্ডে থাকা টাকা-পয়সা বা অন্যান্য সম্পদের ওপর জাকাত ওয়াজিব নয়। কারণ যাকাত এমন সম্পদের ওপর ওয়াজিব হয়, যা কোনো বালেগ, সুস্থবুদ্ধিসম্পন্ন মুসলিম ব্যক্তির মালিকানাধীন।
পক্ষান্তরে মাদরাসা-মসজিদের সম্পদ কোনো ব্যক্তির মালিকানাধীন নয়; বরং তা আল্লাহ তাআলার জন্য ওয়াক্ফকৃত সম্পদ। তাই মাদরাসা-মসজিদের ফান্ডে যত টাকাই থাকুক, তার ওপর যাকাত ওয়াজিব হবে না।
(الدر مع الشامي: ج۲ ص۱۷۳)
وشرط وجوبھا عقل و بلوغ وإسلام وسببہ ملک نصاب حولي
Advertisement
(الدر مع الشامي ج۶ ص۵۲۰، کتاب الوقف)
وعندھما ھو حسبھا علی حکم ملک اللّٰہ تعالی
মসজিদ-মাদরাসার ফান্ডে থাকা টাকা-পয়সা বা অন্যান্য সম্পদের ওপর জাকাত ওয়াজিব কি না—এ বিষয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকার মোহাম্মদপুরের দারুল কুরআন আল ইসলামিয়া মাদরাসার মুফতি ও মুহাদ্দিস আব্দুল কাইয়ুম বলেন, মাদরাসা-মসজিদের ফান্ডে থাকা টাকা-পয়সা বা অন্যান্য সম্পদের ওপর জাকাত ওয়াজিব নয়।
তিনি বলেন, জাকাত এমন সম্পদের ওপর ওয়াজিব হয়, যা কোনো বালেগ, সুস্থবুদ্ধিসম্পন্ন মুসলিম ব্যক্তির মালিকানাধীন। কিন্তু মসজিদ-মাদরাসার সম্পদ কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মালিকানাধীন নয়; বরং তা আল্লাহ তাআলার জন্য ওয়াক্ফকৃত সম্পদ।
তাই মসজিদ বা মাদরাসার ফান্ডে যত টাকাই জমা থাকুক না কেন, ওই অর্থের ওপর জাকাত ওয়াজিব হবে না।
জাকাত ওয়াজিব হওয়ার শর্ত
ফিকহের গ্রন্থ আদ-দুররুল মুখতার ওয়া রদ্দুল মুহতার-এ জাকাত ওয়াজিব হওয়ার শর্ত সম্পর্কে বলা হয়েছে—
وَشَرْطُ وُجُوبِهَا عَقْلٌ وَبُلُوغٌ وَإِسْلَامٌ وَسَبَبُهُ مِلْكُ نِصَابٍ حَوْلِيٍّ
অর্থাৎ, জাকাত ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে আকল, বালেগ হওয়া, ইসলাম এবং নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিকানা থাকা—এসব বিষয় বিবেচ্য।
(আদ-দুররুল মুখতার ওয়া রদ্দুল মুহতার, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৭৩)
ওয়াক্ফ সম্পদের বিধান
মসজিদ-মাদরাসার সম্পদ সাধারণত ওয়াক্ফের অন্তর্ভুক্ত। ওয়াক্ফসংক্রান্ত বিধান প্রসঙ্গে আদ-দুররুল মুখতার ওয়া রদ্দুল মুহতার-এ উল্লেখ রয়েছে—
وَعِنْدَهُمَا هُوَ حَبْسُهَا عَلَى حُكْمِ مِلْكِ اللهِ تَعَالَى
অর্থাৎ, তাঁদের মতে ওয়াক্ফ হলো সম্পদকে আল্লাহ তাআলার মালিকানার বিধানের অধীনে স্থির করে দেওয়া।
(আদ-দুররুল মুখতার ওয়া রদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৫২০, কিতাবুল ওয়াক্ফ)
সুতরাং মসজিদ-মাদরাসার ফান্ডে থাকা অর্থ ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সম্পদ না হওয়ায় এর ওপর ব্যক্তিগত সম্পদের মতো জাকাত ওয়াজিব হবে না। তবে ফান্ডের অর্থ যে উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে, তা সেই উদ্দেশ্যেই শরিয়তসম্মতভাবে ব্যয় করা উচিত।



