পোশাক কারখানা ল্যাভেন্ডার গ্রুপের চেয়ারম্যান, এক চীনা ব্যবসায়ীর গাড়ি থেকে এক কোটি টাকা নিয়ে পালানোর ঘটনায় ব্যক্তিগত গাড়িচালক জাহিদ হাসানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার অন্য দুজন হলেন জাহিদের স্ত্রী নাসিমা আক্তার (২৪) এবং ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার দাউদ হোসেনের ছেলে মো. আক্তারুজ্জামান (৫১)। তাদের কাছ থেকে ৯৭ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চীনা ব্যবসায়ীর গাড়িতে রাখা এক কোটি টাকা নিয়ে গা ঢাকা দেন তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক জাহিদ হাসান। ওই টাকা কারখানার শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য খরচের জন্য ব্যাগে করে গাড়িতে রাখা হয়েছিল।
টাকা নিয়ে পালানোর পর চীনা ব্যবসায়ীর মোবাইল ফোনে ইংরেজিতে একটি খুদে বার্তাও পাঠান জাহিদ। বার্তায় তিনি লেখেন, ‘আমি দুঃখিত স্যার, আমাকে ভুলে যাবেন। আপনার গাড়ি লে ডি’অর কফি শপের পার্কিংয়ে রেখে গেছি। আমি আপনার প্রতি সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকব। ওপরওয়ালা জানেন, আমি জীবনে কারও বিশ্বাস ভঙ্গ করিনি। তবে আমাকে এটি করতে বাধ্য করা হয়েছে।
‘আমি জানি না, বাঁচব কি না। যদি বেঁচে থাকি, আপনার টাকা ফেরত দেব। আমি এখন কাঁদছি, কারণ আমি বিশ্বাস ভঙ্গ করেছি।’
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন বলেন, গত মঙ্গলবার রূপগঞ্জের ক্যাডেট ক্লাবের সামনে চীনা ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত গাড়িচালক জাহিদ হাসান পরিকল্পিতভাবে এক কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। পরে ল্যাভেন্ডার ফ্যাশন লিমিটেডের প্রশাসন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আকরামুল ইসলাম বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেন।
তিনি বলেন, ঘটনার পর শিল্প পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। একপর্যায়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার একটি বাসা থেকে জাহিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে নগদ ৮৬ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরে জাহিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার মামা আক্তারুজ্জামানকে ঝিনাইদহ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে আরও এক লাখ তিন হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া জাহিদের স্ত্রী নাসিমা আক্তারের বাসা থেকে আরও ১০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জাহিদ স্বীকার করেছেন যে, চুরি করা টাকার মধ্যে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকা তিনি খরচ করেছেন। নতুন বাসা ভাড়া নেওয়া, আসবাবপত্র কেনা এবং ৩৩ হাজার টাকা দিয়ে একটি মোবাইল ফোন কেনাসহ বিভিন্ন খাতে এই টাকা ব্যয় করা হয়েছে। পুলিশ ওই আসবাবপত্র ও মোবাইল ফোনও জব্দ করেছে।
তিনি আরও জানান, খোয়া যাওয়া এক কোটি টাকার মধ্যে এ পর্যন্ত ৯৭ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
গ্রেপ্তার তিনজন ও উদ্ধার করা টাকা শনিবার সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



