tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল চলতি মাসেই

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল চলতি মাসেই

চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনকে নিরাপদ, নিরপেক্ষ ও সুশৃঙ্খল করতে দেশের সব ভোটকেন্দ্রকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। পাশাপাশি ভোটের মাঠে নজরদারি বাড়াতে বডি-ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার বাড়ানো হবে। দ্রুত পরিস্থিতির তথ্য সংগ্রহে প্রয়োজনে ড্রোনও ব্যবহার করা হতে পারে।

রোববার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

এদিকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদনের সময়সীমা শেষ হচ্ছে আজ সোমবার। মাঠপর্যায়ে পাঠানো ইসির চিঠি অনুযায়ী, এসব আবেদনের নিষ্পত্তির শেষ সময় ১০ সেপ্টেম্বর। এরপর ভোটার তালিকা মুদ্রণের জন্য পাঠানো হবে।

নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের কর্মপরিকল্পনা তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যেই নির্বাচনের সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনায় শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই নয়, ভোটকেন্দ্রের অবকাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা, ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলা এবং নারী, প্রতিবন্ধী ও গর্ভবতী ভোটারদের প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পাচ্ছে।

ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন

ইসি সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা হবে।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, দেশের সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন একসঙ্গে আয়োজন করা বাস্তবসম্মত নয়। ব্যয় সংকোচনের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মেয়াদসহ অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করে ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজন করা হবে।

নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাস শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য ব্যস্ত সময় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অথচ ভোটকেন্দ্র হিসেবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষকরা প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে পরীক্ষার সময় এড়িয়ে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করছে কমিশন।

চূড়ান্ত আচরণবিধিতে কঠোর বিধান

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণবিধি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসি সূত্র। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চালু করা কয়েকটি নতুন বিধান স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষে আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ করা হবে।

আচরণবিধিতে পোস্টারের ব্যবহার, সরকারি সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা, বিলবোর্ড ব্যবহারের নিয়ম এবং প্রচারণায় অপচনশীল দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণসহ বেশ কিছু বিধান রাখা হয়েছে। এসব বিধান লঙ্ঘন করলে শাস্তির ব্যবস্থাও থাকবে।

জামায়াতের ৯ দফা দাবি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পদধারীদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা, তাদের ভোটে অযোগ্য ঘোষণা এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভোটের দায়িত্বে না রাখাসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্যরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অরাজনৈতিকভাবেই হতে হবে। এ বিষয়ে যেহেতু আইন রয়েছে, তাই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে কিছু বলার সুযোগ নেই।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনী দায়িত্বে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকরা সমাজে সম্মানিত ব্যক্তি। তারা নির্বাচনে প্রার্থী হলে তাদের সহকর্মীদের কেউ কেউ প্রচারণায় যুক্ত হতে পারেন। আবার ওই সহকর্মীদেরই ভোটগ্রহণের দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়ার প্রয়োজন হয়। এতে নির্বাচন কতটা নিরপেক্ষ থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এ কারণে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভোটের দায়িত্বের বাইরে রাখার বিষয়টি কমিশন বিবেচনা করছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না—জামায়াতের এমন অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, তিনি চাপে আছেন কি না বা স্বাধীনভাবে কাজ করছেন কি না, তা তিনি নিজেই জানেন। তার ভাষ্য, নির্বাচন কমিশন যেভাবে কাজ করে, তার বাইরে কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে সেটিও সঠিক হবে না।

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের প্রস্তুতি

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ৯০ দিনের মধ্যে আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার।

তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পোস্টাল ভোটিংয়ের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যেই এ উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থীর প্রার্থিতা ভোটগ্রহণের পর আদালত বাতিল করেছেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আদালতের আদেশের কপি এখনো নির্বাচন কমিশনের হাতে পৌঁছেনি। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া কমিশনের আপাতত কোনো উপায় নেই।