একটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং জাল ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন অভিযোগ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন। মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মাহদী আমিন জানান, গত ২২ জানুয়ারি থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণার সময়ে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংস্থার জরিপ এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনসভায় বিপুল জনসমাগম থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে জনসমর্থনের দিক থেকে বিএনপি শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তিনি দাবি করেন, সারা দেশে বিএনপির পক্ষে যে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে দলটির নিরঙ্কুশ বিজয় অনিবার্য।
একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, জনসমর্থনের এই বাস্তবতা অনুধাবন করেই তারা অপপ্রচার চালাচ্ছে, সহিংসতার ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে ভোট চাইছে। এমনকি জাল ভোটের প্রস্তুতিরও অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, যারা সততা ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কথা বলে, তারাই যদি নির্বাচনে টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। ঢাকা-১৫ আসনে ওই দলের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইতে গিয়ে একজন শীর্ষ আইনজীবী নেতার প্রকাশ্যে অর্থ বিতরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
মাহদী আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে সামনে রেখে প্রচারণা চালানো দলটির কিছু প্রার্থী ভোটারদের অর্থ দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন। খুলনা-১ আসনেও সংশ্লিষ্ট দলের প্রার্থী ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণ করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ ছাড়া কুমিল্লা-১৪ ও বগুড়া-৪ আসনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) এলাকায় রাতের আঁধারে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বগুড়া-৪ আসনের নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতামাঝ গ্রামে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন। এসব ঘটনায় অনেকে আহত হয়েছেন এবং এলাকায় ভীতি ছড়িয়েছে বলে জানান তিনি।
এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন, রিটার্নিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, যেকোনো অপপ্রচার, অর্থ লেনদেন বা সহিংসতা দিয়ে জনগণের রায় নস্যাৎ করা যাবে না; গণতন্ত্রকামী জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করবে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভোটের দিন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে বলে তারা প্রত্যাশা করেন। অন্তর্বর্তী সরকার, নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থা রাখার কথাও জানান তিনি। সকল রাজনৈতিক দল দায়িত্বশীল আচরণ করলে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নির্বাচনে ভোটের পরিবেশ নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর পর মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছে বলে তারা মনে করেন। জনগণের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ রয়েছে এবং সব দল মিলেই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।



