বিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা, আস্থা ও মানসিক প্রশান্তির বন্ধন তৈরি করে। দাম্পত্য জীবনে অনেকেই খুঁজে পান সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। তবে সব সম্পর্কের পরিণতি এক রকম হয় না। কখনো মতবিরোধ, অশান্তি ও নানা জটিলতায় স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়।
ইসলামে দাম্পত্য সম্পর্কের ইতি টানার বৈধ পদ্ধতি হিসেবে তালাকের বিধান রয়েছে। তবে সম্পর্কের সংকট দেখা দিলেই তালাকের পথে না গিয়ে ধৈর্য ধারণ ও সমঝোতার চেষ্টা করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। হাদিসে তালাককে বৈধ কাজগুলোর মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২১৭৮)
তবে সব চেষ্টা সত্ত্বেও দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা সম্ভব না হলে শরিয়তে তালাকের অনুমতি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে তালাক প্রদানের পদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট বিধান মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের নথি তৈরি করা সম্ভব। এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, এআইয়ের সাহায্যে তালাকনামা তৈরি করে তাতে স্বামীর স্বাক্ষর থাকলে শরিয়তের দৃষ্টিতে তালাক কার্যকর হবে কি না।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে লিখিতভাবেও তালাক কার্যকর হতে পারে। স্বামী স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তালাকের সুস্পষ্ট বক্তব্য লিখে দিলে তা লিখিত তালাক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ধরনের তালাক কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শরয়ি শর্ত ও স্বামীর উদ্দেশ্য গুরুত্বপূর্ণ। লিখিত তালাকের জন্য সাক্ষী থাকা আবশ্যক নয় বলে আলোচ্য বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেই হিসাবে, এআইয়ের মাধ্যমে তালাকনামা তৈরি করা হলেও স্বামী যদি বিষয়টি জেনে-বুঝে স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে নথিটি গ্রহণ করেন এবং তাতে নিজের স্বাক্ষর দেন, তাহলে তা লিখিত তালাক হিসেবে গণ্য হতে পারে। অর্থাৎ, তালাকনামাটি এআই দিয়ে তৈরি হয়েছে কি না, সেটিই একমাত্র বিবেচ্য বিষয় নয়; বরং স্বামীর উদ্দেশ্য, নথির বক্তব্য এবং শরিয়তের প্রযোজ্য শর্তও গুরুত্বপূর্ণ।
আলোচ্য মত অনুযায়ী, তালাকনামায় এক তালাকের কথা লেখা থাকলে এক তালাক এবং তিন তালাক লেখা থাকলে তিন তালাক কার্যকর হতে পারে। তবে বাস্তব কোনো ঘটনায় তালাকের সংখ্যা ও কার্যকারিতা নির্ধারণে নথির সঠিক ভাষা, পরিস্থিতি, অনুসৃত ফিকহি মত এবং প্রযোজ্য আইন বিবেচনা করা জরুরি। তাই এমন পরিস্থিতিতে শুধু এআইয়ের তৈরি নথি বা সাধারণ ব্যাখ্যার ওপর নির্ভর না করে যোগ্য মুফতির পরামর্শ নেওয়া উচিত।



