tanaka

অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ নয়, কর্মঘণ্টার পূর্ণ সদ্ব্যবহারের নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

আদালতের নির্ধারিত কর্মঘণ্টার পূর্ণ সদ্ব্যবহার এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ না করতে বিচারকদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। একই সঙ্গে...
প্রচ্ছদজাতীয়ঈদযাত্রার আরেক নাম ‘মৃত্যুর মিছিল’

ঈদযাত্রার আরেক নাম ‘মৃত্যুর মিছিল’

বিজ্ঞাপনচিত্রের জিঙ্গেল থেকে দেশের মানুষের ঘরে ফেরার ‘থিম সং’–এ পরিণত হয়েছে ‘স্বপ্ন যাবে বাড়ি আমার…’। ঈদে অনেক স্বপ্ন, আশা নিয়েই বাড়ি রওয়ানা দেয় লাখো মানুষ। তবে নিয়তির পরিহাসে সব স্বপ্ন শেষ পর্যন্ত বাড়ি পৌঁছাতে পারে না। আবার সবাই ফের ফিরতেও পারে না কর্মস্থলে। সড়কে একটি দুর্ঘটনা হয়ে ওঠে সারা জীবনের কান্না।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি জাগো নিউজকে জানায়, গত চার বছরে আটটি ঈদে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ৬৭ জন মানুষ। আহত হয়েছেন ৬ হাজার ৯৯৬ জন। গত এক দশকের পরিসংখ্যান বলছে, সড়ক ও মহাসড়ক দৃশ্যত ‘মরণফাঁদ’।সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ সামনে এলেই দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রী চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় যানজট, দুর্ঘটনা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট সংকট ও চাঁদাবাজির মতো সমস্যা। ফলে যে যাত্রা হওয়ার কথা আনন্দের, তা অনেক সময় হয়ে ওঠে উদ্বেগ আর দুর্ভোগের। সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নানা ধরনের প্রস্তুতির কথা বললেও প্রতি বছরই এসব সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটে।

মহাসড়কে বিশেষ নজরদারি, হাইওয়ে পুলিশের টহল বৃদ্ধি, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও পরিবহন শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সড়ক, রেল ও নৌপথে সমন্বিত পরিকল্পনার কথাও বলা হয়। বাস্তবতা হলো, পরিকল্পনা যতই ভালো হোক, তার কার্যকর বাস্তবায়ন হয় না।বিভিন্ন গবেষণা ও পরিসংখ্যান বলছে, ঈদের আগে ও পরে কয়েকদিন সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা সাধারণ সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়না, ক্লান্ত চালক, অতিরিক্ত যাত্রী এবং অনেক ক্ষেত্রে অযোগ্য চালকের উপস্থিতি এ ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অপরিকল্পিত মহাসড়ক ব্যবস্থাপনা।

পরিসংখ্যান উদ্বেগজনক

২০২২ সালে ঈদুল ফিতরে দেশের সড়ক-মহাসড়কে ৩৭২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ৪৪৩ জন নিহত এবং ৮৬৮ জন আহত হন। ১৬৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৪৫ জন নিহত হন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৪৪ দশমিক ০৮ শতাংশ।

২০২২ সালে ঈদুল আজহায় ৩৫৪টি দুর্ঘটনায় ৪৪০ জন নিহত এবং আহত হন ৭৯১ জন। ১১৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা যান ১৩১ জন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মানুষের ৩৫ দশমিক ৪২ শতাংশ।