পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি দাবি করেছেন, ইসলামাবাদে সংঘটিত আত্মঘাতী হামলার অর্থায়ন করেছে ভারত এবং হামলার টার্গেট সংক্রান্ত তথ্যও সরবরাহ করেছে তারা। শনিবার ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
নাকভি জানান, হামলার মূল পরিকল্পনাকারী নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন দায়েশ (আইএস)-এর সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি বর্তমানে পাকিস্তানের হেফাজতে রয়েছে। হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহায়তাকারীদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হামলার পরপরই খাইবার পখতুনখোয়ার পেশোয়ার ও নওশেরা এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে মূল হোতা ও তার সহযোগীদের আটক করা হয়।
শুক্রবার ইসলামাবাদের তারলাই এলাকায় একটি ইমামবাড়িতে নামাজ চলাকালে এই ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা ঘটে। এতে অন্তত ৩৩ জন নিহত হন এবং ডজনখানেক মানুষ আহত হন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, হামলাকারী প্রথমে গুলি চালায় এবং পরে ইমামবাড়ির প্রবেশপথে নিজের শরীরে থাকা বিস্ফোরক বিস্ফোরণ ঘটায়।
সংবাদ সম্মেলনে নাকভি বলেন, “আমি আবারও স্পষ্ট করে বলছি—এই সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর সম্পূর্ণ অর্থায়ন ভারত থেকে হচ্ছে। তাদের লক্ষ্যবস্তুর সব তথ্যও ভারত সরবরাহ করছে।” তিনি জানান, খাইবার পখতুনখোয়া কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি) হামলার সঙ্গে জড়িত সব ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানে সিটিডি ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করেছে।
অভিযানের সময় একজন কেপি পুলিশ সদস্য নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, হামলাকারীকে কীভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং কীভাবে তাকে পাকিস্তানে আনা হয়েছে—সে বিষয়ে সরকারের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ আফগানিস্তানে সম্পন্ন করা হয়েছে।
নাকভির অভিযোগ, দায়েশসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে ভারত নিয়মিত অর্থায়ন করছে। তিনি বলেন, আগে একজন উগ্রপন্থির জন্য বরাদ্দ ছিল ৫০০ ডলার, যা এখন বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০০ ডলার করা হয়েছে। মে মাসে পরাজয়ের মুখে পড়ার পর ভারত তাদের সন্ত্রাসী বাজেট তিন গুণ বাড়িয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “সন্ত্রাসীরা যদি তাদের বাজেট দশ গুণও বাড়ায়, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে পিছপা হবে না।” একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করা সব জঙ্গির বিরুদ্ধে একই নীতিতে ব্যবস্থা নিতে হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্ত্রাসীরা যেসব অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে, সেগুলো বন্ধের জন্য সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোকে জানানো হয়েছে বলেও জানান নাকভি। প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।



