দ্রুতই উদঘাটন হবে রহস্য- চিফ প্রসিকিউটর: বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর গুমের ১৪ বছর পূর্ণ হলো আজ। এ ঘটনায় শিগগিরই রহস্য উদঘাটন হবে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ রয়েছে এবং গুমের ঘটনায় জড়িতদের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য উঠে আসছে।” গতকাল নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ইলিয়াস আলী ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা এবং সিলেট বিভাগের গর্ব। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে (বা ১৮ এপ্রিলের শুরুতে) রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। এর আগে ১৪ এপ্রিল সিলেটে ছাত্রদলের দুই নেতা—ইফতেখার আহমেদ দিনার ও জুনায়েদ—নিখোঁজ হন। এই ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ওই সময়কার ফোনালাপ বিশ্লেষণ করে আটটি মোবাইল নম্বরের কল ডিটেইলস (সিডিআর) সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে অস্বাভাবিক যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে—সেদিন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইলিয়াস আলীকে অনুসরণ করছিলেন।
জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে চলমান মামলার কিছু সাক্ষ্য থেকেও ইলিয়াস আলীর গুমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আরও সাক্ষ্য-প্রমাণ তদন্তকে এগিয়ে নেবে।
তিনি আরও জানান, ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার কাছ থেকেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তদন্ত কার্যক্রম জোরদারভাবে চলছে উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, এই তদন্ত একটি সুসংগঠিত পর্যায়ে রয়েছে। তদন্ত শেষে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে পারব এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন সম্ভব হবে।”
পরিবারের সদস্যদের সাক্ষী করা হবে কিনা—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি রাজনৈতিক সহকর্মী এবং ঘটনার দিন সংশ্লিষ্ট স্থানে উপস্থিত ব্যক্তিদেরও সাক্ষী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের এপ্রিলের শুরুতে সিলেট জেলা বিএনপির দুই নেতা নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের সন্ধানে আন্দোলন শুরু হয়। এর দুই সপ্তাহের মাথায় ঢাকার বনানী থেকে নিখোঁজ হন এম ইলিয়াস আলী এবং তার গাড়িচালক আনসার আলী। দীর্ঘ ১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো এ গুমের রহস্য পুরোপুরি উন্মোচিত হয়নি।
এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শেখ মামুন খালেদের পরিকল্পনায় এ গুমের ঘটনা সংঘটিত হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও একপর্যায়ে স্বীকার করেন, অভিযানে ডিজিএফআইয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছিলেন এবং অন্যান্য সংস্থার কিছু সদস্য বিষয়টি জানতেন।
গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে আরও জানা গেছে, ওই সময়কার উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি বিশেষ বাহিনী এ অভিযান পরিচালনা করে। তবে এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই এখনও তদন্তাধীন।
১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এম ইলিয়াস আলীর পরিবারের অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি। রহস্য উদঘাটনের মাধ্যমে সত্য প্রকাশের প্রত্যাশায় রয়েছে দেশবাসীও।



