ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পরিষদের বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা তৈরি হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫ সদস্যের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে রাশিয়া ও চীন ইরানের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা তদারকির জন্য গঠিত একটি কমিটি নিয়ে আলোচনা বন্ধ করার প্রস্তাব দেয়। তবে ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি ১১–২ ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয় এবং দুই দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।
বৈঠকে জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ রাশিয়া ও চীনের বিরুদ্ধে ইরানকে আড়াল করার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ১৭৩৭ কমিটির কার্যক্রমে বাধা দিয়ে মস্কো ও বেইজিং তেহরানকে সহায়তা করার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের সব সদস্য দেশের উচিত ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য বন্ধ করা এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক সম্পদ জব্দ করা।
ওয়াল্টজ দাবি করেন, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) সম্প্রতি জানিয়েছে—পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন দেশগুলোর মধ্যে ইরানই একমাত্র দেশ যারা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন ও মজুত করেছে। পাশাপাশি সেই মজুদের পূর্ণাঙ্গ প্রবেশাধিকার আইএইএকে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অযথা আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। তার মতে, তেহরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযান চালানোর অজুহাত তৈরি করতেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
চীনের প্রতিনিধি ফু কংও যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ইরান পারমাণবিক সংকটের পেছনে মূল উস্কানিদাতা ওয়াশিংটন নিজেই। তিনি অভিযোগ করেন, আলোচনা চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করেছে।
এদিকে জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সবসময়ই শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রচেষ্টা তেহরান মেনে নেবে না।



