রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পৃথকভাবে টেলিফোনে কথা বলেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন তিনি। ক্রেমলিনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, ইরান বরাবরই অভিযোগ করে আসছে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দেশটিতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জাতীয় ঐক্য দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
গত জুনে ইরান ও ইসরাইল সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সরাসরি সংঘাতের মুখোমুখি হয়। সে সময় ইসরাইল প্রথমবারের মতো ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রও সীমিত আকারে ওই অভিযানে অংশ নেয় এবং ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানে।
শুক্রবার ক্রেমলিন জানায়, দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যেই নেতানিয়াহু ও পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পুতিনের এই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেস্কভ বলেন, ‘এ অঞ্চলের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটাপন্ন। প্রেসিডেন্ট পুতিন উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।’
পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলাপে পুতিন ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ আরও জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেন। অপরদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানায়, জাতিসংঘে ইরানের প্রতি রাশিয়ার সমর্থনের জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন পেজেশকিয়ান।
ইরান রাশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার। ফলে দেশটির প্রো-মস্কো নেতৃত্বকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে—এমন যেকোনো সংঘাত নিয়ে মস্কো সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এই ফোনালাপকে ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে পুতিনের প্রথম প্রকাশ্য মন্তব্য এবং সাম্প্রতিক প্রতিবাদ শুরুর পর তেহরানের সঙ্গে মস্কোর প্রথম প্রকাশ্য যোগাযোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
একই সঙ্গে রাশিয়া ইসরাইলের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করায় এই সম্পর্ক কিছুটা জটিল হয়েছে।
নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপে ক্রেমলিন জানায়, মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে রাশিয়া প্রস্তুত রয়েছে, যদিও এখনো কোনো নির্দিষ্ট উদ্যোগের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, এক জ্যেষ্ঠ সৌদি কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, সৌদি আরব, কাতার ও ওমান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করে ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলা বন্ধের চেষ্টা চালিয়েছে, যাতে এ অঞ্চলে ‘গুরুতর পরিণতি এড়ানো যায়’।



