tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকইরানে দ্রুত জয় চেয়েছিলেন ট্রাম্প, কিন্তু এখন চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে—নিউইয়র্ক টাইমস

ইরানে দ্রুত জয় চেয়েছিলেন ট্রাম্প, কিন্তু এখন চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে—নিউইয়র্ক টাইমস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বিদেশের মাটিতে সামরিক শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দিলে সাধারণত তার হিসাব থাকে সহজ—মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি হবে কম এবং দেশের অর্থনীতিতেও বড় ধরনের চাপ পড়বে না। তবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের শুরুর দিনগুলোই সেই ধারণাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

ইতিমধ্যে ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পারস্য উপসাগর অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের বিভিন্ন স্থাপনাও হামলার মুখে পড়ছে। একই সঙ্গে অস্থির হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজার এবং বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম, যা সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, চলমান অভিযানে পেন্টাগন প্রতিদিন কয়েকশ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। এদিকে ইরানের একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিমান হামলায় ১৭৫ জন নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে তদন্ত চলছে।

এখনও পর্যন্ত ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন স্থলসেনা মোতায়েন করা হয়নি। তবে প্রশাসন এ সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নাকচও করেনি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, এই সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তার ভাষায়, “আমরা অভিযান ধীর করছি না, বরং আরও জোরদার করছি। আজও নতুন করে বোমারু ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হচ্ছে।”

শনিবার থেকে শুরু হওয়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগে ট্রাম্প প্রশাসনের আত্মবিশ্বাস ছিল তুঙ্গে। এর পেছনে ছিল ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে দ্রুত অভিযানে আটক করা, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আকস্মিক হামলা এবং ইয়েমেন ও সোমালিয়ার মতো দেশে পরিচালিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের সাফল্য। ট্রাম্প প্রশাসনের দৃষ্টিতে এসব অভিযান ছিল দ্রুত, কার্যকর এবং তুলনামূলকভাবে কম ব্যয়বহুল।

তবে কলোরাডোর ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ও সাবেক আর্মি রেঞ্জার জেসন ক্রো সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্প যে ‘অন্তহীন যুদ্ধের’ বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আবার সেই পথেই হাঁটছে। তিনি বলেন, “ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় এবং হাজারো প্রাণহানির ২৫ বছর পর আমরা আবারও সেই একই চক্রে আটকে পড়ছি।”

ক্যাটো ইনস্টিটিউটের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক ফেলো জন হফম্যান মনে করেন, মাদুরো ইস্যুর পর ট্রাম্প নিজেকে অনেকটা ‘অজেয়’ ভাবতে শুরু করেছিলেন। তার মতে, ট্রাম্প কম খরচে বড় ধরনের সামরিক সাফল্য পছন্দ করেন। কিন্তু ইরান ও ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি এক নয়। ইতোমধ্যে ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়ে গেছে এবং এটি পরিস্থিতির কেবল শুরু হতে পারে।

অন্যদিকে কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের সিনিয়র ফেলো এলিয়ট আব্রামসের মতে, চার দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্যবস্তু বানানো ইরানি শাসনের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করে দিলে তার দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যেতে পারে। তার মতে, স্থলসেনা না পাঠালেও একটি দুর্বল ইরানি শাসন শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে।

তবে বিশ্লেষক হফম্যান সতর্ক করে বলেন, ইরানকে অস্থিতিশীল করে তোলা মানে হতে পারে “প্যান্ডোরার বাক্স” খুলে দেওয়া। এতে পুরো অঞ্চলে বড় ধরনের শরণার্থী সংকট তৈরি হতে পারে এবং আইসিসের মতো উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো অরাজকতার সুযোগ নিয়ে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

এদিকে ট্রাম্প ইরানি জনগণকে নিজেদের দেশ ‘দখল’ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে হোয়াইট হাউস এখনও স্পষ্ট করেনি, তারা সেখানে কোনো নির্দিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সরাসরি সমর্থন দেবে কি না।