ইরানজুড়ে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির শীর্ষ কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। খবর আল জাজিরার।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পোস্টে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিচার বিভাগের মূল কার্যক্রম এখন শুরু হয়েছে। যারা দয়া পাওয়ার যোগ্য নন, তাদের অযথা ছাড় দেওয়া ন্যায়ের পরিপন্থী হবে।’
এজেইর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন রোববার অল্প সময়ের জন্য আংশিকভাবে ইন্টারনেট চালু করা হলেও পরে তা আবারও অধিকাংশ মানুষের জন্য সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এর আগে ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান এবং সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে তিন নেতা জানান, তথাকথিত ‘খুনি ও সন্ত্রাসী উসকানিদাতাদের’ বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যারা বিদেশি শক্তির প্ররোচনায় ভুলবশত বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে, তারা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ‘ইসলামি সহানুভূতি’ পেতে পারে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ বরাবরের মতোই এই বিক্ষোভের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, এসব দেশ বিক্ষোভকারীদের অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহ করেছে।
এরই মধ্যে শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ‘কয়েক হাজার মানুষ’ নিহত হয়েছে। তবে তার দাবি, এসব হত্যাকাণ্ড রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নয়; বরং বিদেশি শক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এজেন্টদের দ্বারা সংঘটিত।
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের ডাউনটাউন এলাকায় দোকানদারদের আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত দশ হাজারেরও বেশি মানুষ গ্রেফতার বা আটক হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকার প্রতিদিনই নতুন গ্রেফতারের ঘোষণা দিচ্ছে।



