প্রায় দেড় ঘণ্টা দীর্ঘ ভাষণের পরে ইরান প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন, তেহরান সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন করছে, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করেছে এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি অঞ্চলে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি করছে। তিনি দাবি করেন, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি জোরদার করছে এবং এমন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে যা শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। পাশাপাশি তিনি ইরানকে সড়কবোমা হামলার মাধ্যমে মার্কিন সেনা ও বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার দায়েও অভিযুক্ত করেন।
ট্রাম্প বলেন, ইরান চুক্তি করতে চায়, কিন্তু তারা কখনো স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দেয়নি যে “আমরা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করব না।” তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর তিনি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা অনেকাংশে ধ্বংস হয়েছে। তবে প্রশাসনের কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, ইরান দ্রুত পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছে। অন্যদিকে ইরান বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি কেবল বেসামরিক জ্বালানি উৎপাদনের জন্য। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক্সে পোস্টে ট্রাম্পের বক্তব্যকে “মিথ্যার পুনরাবৃত্তি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, পারমাণবিক কর্মসূচি, আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র এবং সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা সংক্রান্ত অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
ভাষণের আগে মার্কো রুবিও ও সিনেটের শীর্ষ নেতারা কংগ্রেসে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। ডেমোক্র্যাটিক নেতা চাক শুমার সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ গোপনে নেওয়া উচিত নয়; বরং জনসম্মুখে আলোচনা করে নিতে হবে, কারণ গোপন সামরিক অভিযান দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ, অতিরিক্ত ব্যয় এবং কৌশলগত ভুলের ঝুঁকি তৈরি করে।
ট্রাম্প তার ভাষণে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি তুলে ধরে দীর্ঘ যুদ্ধের অবসানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তার ইরান বিষয়ক অবস্থান নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক সরাসরি ও তাৎক্ষণিক হুমকি না থাকলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিপক্ষে। ট্রাম্প ভাষণে অর্থনীতি, অভিবাসন ও অভ্যন্তরীণ নীতির সাফল্য তুলে ধরলেও ইরান বিষয়ে তার বার্তা স্পষ্ট ও কঠোর ছিল। তিনি বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাই, কিন্তু আমেরিকার বিরুদ্ধে হুমকি এলে মোকাবিলায় কখনো দ্বিধা করবো না।
একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন অঞ্চলে তিন শতাধিক মার্কিন সামরিক বিমান মোতায়েন রয়েছে। বিমানগুলো কাতারের আল-উদেইদ, জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে অবস্থান করছে। এছাড়া ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ও ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড বিমানবাহী রণতরীতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যুদ্ধবিমান রয়েছে।
মোতায়েনকৃত বিমানবহরে আক্রমণাত্মক ও সহায়ক উভয় ধরনের বিমান রয়েছে; এর মধ্যে ৭০% আক্রমণাত্মক। বাকি ৩০% বিশেষায়িত ভূমিকার মধ্যে রয়েছে: ১৮টি ইএ-১৮জি গ্রাউলার ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বিমান, ১২টি এ-১০সি থান্ডারবোল্ট ক্লোজ এয়ার সাপোর্ট বিমান, ৫টি ই-১১এ ব্যাটলফিল্ড এয়ারবর্ন কমিউনিকেশন নোড এবং ৬টি ই-৩ সেন্ট্রি এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (অ্যাওয়াকস)।



