ইরানের বন্দর থেকে জাহাজ চলাচলে অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পাল্টা জবাবে উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর বন্দর লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরান। এতে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ ও বহির্গামী সব জাহাজের ওপর এই অবরোধ কার্যকর করা হবে। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে ‘জলদস্যুতা’ বলে আখ্যা দিয়েছে ইরান। দেশটি সতর্ক করে বলেছে, তাদের বন্দর হুমকির মুখে পড়লে উপসাগরীয় অঞ্চল বা ওমান উপসাগরের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ৫০ মিনিট থেকে অবরোধ কার্যকর হয়েছে। এক বিবৃতিতে বলা হয়, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরে অবস্থিত ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশকারী বা সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া সব দেশের জাহাজের ক্ষেত্রেই এই অবরোধ নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা হবে।
এলএসইজি-র তথ্য অনুযায়ী, অবরোধ কার্যকর হওয়ার আগেই সোমবার তেলজাত পণ্য বোঝাই ইরান-সংশ্লিষ্ট দুটি ট্যাংকার প্রণালি ত্যাগ করেছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়েছে। সোমবার লেনদেন শুরু হলে দাম প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকট বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে।
সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান কার্যত প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে অন্যান্য দেশের জাহাজ চলাচল সীমিত করে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানকে অর্থায়ন করে এমন জাহাজগুলোকেও চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।
তবে ন্যাটো জোটের সদস্য যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স স্পষ্ট করেছে, তারা এই অবরোধে অংশ নেবে না। বরং দ্রুত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছে তারা। বিশ্বে মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
রয়টার্স জানিয়েছে, ছয় সপ্তাহ ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তা এখন ঝুঁকির মুখে। ইসলামাবাদে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
ইরান জানিয়েছে, প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি থেকে সেনা প্রত্যাহার চায়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তাদের ইউরেনিয়াম মজুত ত্যাগ করুক এবং ভবিষ্যতে সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করুক।



