ইরানের সীমান্তঘেঁষা এলাকায় ব্যাপক সামরিক শক্তি জড়ো করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সেখানে যুদ্ধজাহাজের বহর, হাজারো সেনা এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দিলেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে—এমন বার্তাই দেওয়া হচ্ছে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে। তবে এই চাপের মধ্যেও অনড় রয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির নেতৃত্বাধীন তেহরান বলছে, হুমকি দিয়ে তাদের নীতিগত অবস্থান বদলানো যাবে না।
ইরান এখনো কেন ‘আত্মসমর্পণ’ করে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে সম্মত হয়নি—এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনে। ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রেসিডেন্ট হতাশ নন, তবে ইরানের অবস্থান নিয়ে তিনি বিস্মিত ও কৌতূহলী। খবর প্রকাশ করেছে BBC।
উইটকফের ভাষ্য, “প্রেসিডেন্ট জানেন তার হাতে অনেক বিকল্প আছে। কিন্তু এত চাপের পরও তারা কেন আমাদের কাছে এসে বলছে না যে তারা অস্ত্র চায় না—এ বিষয়টি তাকে ভাবাচ্ছে। তাদের সেই অবস্থানে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে।”
মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। সম্ভাব্য বিমান হামলার প্রস্তুতিও নিতে বলা হয়েছে। পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান—হামলা হলে অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ত্যাগ করতে হবে। পাশাপাশি আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে তেহরান বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ। আর্থিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে কিছু সীমাবদ্ধতা মেনে নিতে তারা প্রস্তুত হলেও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বা আঞ্চলিক নীতির মতো বিষয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী নয়।
উইটকফ আরও দাবি করেন, “বেসামরিক প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা হচ্ছে। এটি ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।”



