tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকইমরান খান কি তাহলে মুক্তি পাচ্ছেন?

ইমরান খান কি তাহলে মুক্তি পাচ্ছেন?

পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের একটি নির্জন কক্ষে বন্দি রয়েছেন ‘কয়েদি নম্বর ৮০৪’। চলতি সপ্তাহেই তাঁর কারাজীবনের তিন বছর পূর্ণ হতে চলেছে। তিনি পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক এবং দেশটির ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তি ইমরান খান।

সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির পর ২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি হন ইমরান খান। এরপর থেকে তিনি কার্যত লোকচক্ষুর আড়ালেই রয়েছেন। ২৬ কোটির বেশি মানুষের দেশে সবচেয়ে পরিচিত এই রাজনৈতিক নেতাকে এ সময়ের মধ্যে প্রকাশ্যে দেখা গেছে মাত্র একবার—একটি অনলাইন আদালত শুনানির সময় ফাঁস হওয়া একটি ছবিতে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর সম্ভাব্য মুক্তি নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য অবজারভার-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা এবং ইমরান খানের পরিবারের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তাঁকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে নীরবে আলোচনা চলছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সামরিক বাহিনী ও ইমরান খানের পক্ষের মধ্যে সরাসরি কোনো আলোচনা হচ্ছে না। বরং তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের ভাষ্য, পাকিস্তানকে রাজনৈতিক অচলাবস্থা থেকে বের করে আনতে হলে এ সংকটের সমাধান জরুরি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতায় দেশের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে ইমরান খানকে মুক্তি দেওয়া একটি সম্ভাব্য সমাধান হতে পারে।

বর্তমানে ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান চলতি বছরের শুরুতে চোখে অস্ত্রোপচার করান। পরিবারের দাবি, কয়েক মাস ধরে তাঁর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ সীমিত বা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এমনকি একপর্যায়ে তাঁর মৃত্যুর গুজবও ছড়িয়ে পড়ে।

দ্য অবজারভার-কে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে ইমরান খানের দুই ছেলে সুলাইমান খান ও কাসিম খান বলেন, “আমাদের পক্ষে এখন আর চুপ থাকা সম্ভব নয়। সাত মাসের বেশি সময় ধরে আমাদের বাবাকে বাইরের পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। তাঁর স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ছে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। তাঁর সঙ্গে আমাদের কোনো স্বাধীন ও নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।”

ইমরান খানের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ জুলফি বুখারিও একই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে এবং তাঁর জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন। তিনি বলেন, “তাঁকে সম্পূর্ণ নির্জন কারাবাসে রাখা হয়েছে। নিজের বোন, পরিবারের সদস্য কিংবা আইনজীবীদের সঙ্গেও নিয়মিত দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। সরকারের মধ্যে যদি ন্যূনতম দায়িত্ববোধ থেকে থাকে, তবে স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনা করে তাঁকে দ্রুত মুক্তি দেওয়া উচিত।”

তবে এখন পর্যন্ত পাকিস্তান সরকার বা সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে ইমরান খানের সম্ভাব্য মুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে তাঁর মুক্তির বিষয়ে জোরালো আলোচনা থাকলেও বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়।