tanaka

কলকাতায় বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা

চিকিৎসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে কলকাতাগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশ ছাড়ার আগে হোটেল বুকিং নিশ্চিত করা এবং নির্ধারিত আবাসনের বর্তমান অবস্থা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই করার পরামর্শ...
প্রচ্ছদখেলাইমরান খানের সঙ্গে যা হচ্ছে, তা বর্বরতা: সৈয়দ আশরাফুল হক

ইমরান খানের সঙ্গে যা হচ্ছে, তা বর্বরতা: সৈয়দ আশরাফুল হক

পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ও দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে কারাবন্দী। সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট। তবে সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক। তারা এ বিষয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের কাছে যৌথভাবে চিঠিও দিয়েছেন।

এবার ইমরান খানের প্রতি পাকিস্তান সরকারের আচরণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ দলের সাবেক ক্রিকেটার, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সাবেক প্রধান নির্বাহী সৈয়দ আশরাফুল হক।

সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি ইমরান খানের সঙ্গে করা আচরণকে ‘বর্বরতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ইমরান খানকে বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি উল্লেখ করে তার সঙ্গে অমানবিক আচরণ বন্ধের আহ্বান জানান আশরাফুল হক।

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানে দুর্নীতি দূর করার লক্ষ্যেই ইমরান খান রাজনীতিতে এসেছিলেন। জনগণের কাছ থেকে দেশ পরিচালনার স্পষ্ট ম্যান্ডেটও পেয়েছিলেন তিনি। এমন একজন মানুষকে অমানবিক পরিবেশে কারাগারে রাখা কোনো সভ্য দেশের জন্য কাম্য হতে পারে না।’

বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, ‘মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি সম্পূর্ণ বেআইনি ও অসাংবিধানিক। ইমরান খানের সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, তা বর্বরতার শামিল।’

ইমরান খানের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথাও স্মরণ করেন সৈয়দ আশরাফুল হক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারিতে লাহোর অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে খেলতে ঢাকায় এসেছিলেন ইমরান খান। সেখানেই তাদের পরিচয়। ওই ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিংয়ের পাশাপাশি সেঞ্চুরিও করেছিলেন ইমরান।

স্বাধীনতার পর ইংল্যান্ডে পড়াশোনার সময়ও তাদের যোগাযোগ ছিল বলে জানান আশরাফুল হক। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কিবল কলেজে ইমরান খানের সঙ্গে তার একাধিকবার দেখা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাকিস্তান দলের সফরকালে তাদের সাক্ষাৎ হয়েছে। ইমরান রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পরও তাদের বন্ধুত্ব অটুট ছিল।

রাজনৈতিক বিরোধের কারণে ইমরান খানের জীবন নিয়ে মাঝেমধ্যে শঙ্কিত থাকতেন বলেও জানিয়েছেন আশরাফুল হক। তবে এসব বিষয়ে ইমরান খুব একটা চিন্তিত ছিলেন না। আশরাফুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, ইমরান তাকে বলতেন, ‘আমি যদি এভাবে মারা যাওয়ার জন্য নির্ধারিত থাকি, তাহলে এভাবেই মরব।’

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতার জন্য বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলাকে ইমরান খানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী দিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

ইমরানের পরিবারের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল বলে জানান আশরাফুল হক। ১৯৯০-এর দশকে ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীতে ইমরান খান ও তার পরিবারের সঙ্গে নৌভ্রমণের স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি।

সৈয়দ আশরাফুল হকের মতে, ব্যক্তিগত স্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে পাকিস্তানের উন্নতি ও কল্যাণের লক্ষ্যেই ইমরান খান রাজনীতিতে এসেছিলেন। বর্তমানে তার সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, তা বন্ধে বিশ্ববাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।