tanaka

পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধ ২০৪ কোটি ডলার

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। চলতি...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকইবোলায় কঙ্গোতে মৃত্যু ২২০, সতর্ক করল ডব্লিউএইচও

ইবোলায় কঙ্গোতে মৃত্যু ২২০, সতর্ক করল ডব্লিউএইচও

কঙ্গোতে ইবোলা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় চলমান সহিংসতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে সতর্ক করেছে ডব্লিউএইচও। সংস্থাটির মহাপরিচালক টেডরোস আধানম ঘেব্রেয়েসাস বলেছেন, দেশটির পূর্বাঞ্চল এখন “রোগ ও সংঘাতের এক ভয়াবহ কেন্দ্রবিন্দুতে” পরিণত হয়েছে।

তিনি জানান, ইটুরি প্রদেশে ইবোলার বিস্তার নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে। সংঘর্ষের মধ্যে মানুষদের আস্থা অর্জন, রোগীদের আলাদা রাখা এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। বুধবার তার কঙ্গো সফরের কথা রয়েছে, যেখানে তিনি ইবোলা নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক সহায়তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেবেন।

প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ২২০ জনে পৌঁছেছে। তবে এর মধ্যে মাত্র ১৭ জনের মৃত্যুই পরীক্ষাগারে ইবোলা ভাইরাস রোগের কারণে নিশ্চিত করা গেছে। এছাড়া প্রায় ১ হাজার মানুষের মধ্যে ইবোলার উপসর্গ দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

ইটুরি প্রদেশে চলমান সংঘাত, দুর্বল সড়ক যোগাযোগ, ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভেঙে পড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণকে আরও জটিল করে তুলেছে। ২০২১ সাল থেকে সামরিক প্রশাসনের অধীনে থাকা এই অঞ্চলে বহু সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয়তা মানবিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে।

ডব্লিউএইচও প্রধান বলেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নির্ভর করছে মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবেশের ওপর। কিন্তু চলমান সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুতি মানুষকে ঘনবসতিপূর্ণ শিবিরে ঠেলে দিচ্ছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।

সামনের সারির স্বাস্থ্যকর্মীরা জীবন ঝুঁকিতে রেখেই কাজ করছেন। তবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর ওপর হামলা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে রোগী শনাক্তকরণ ও সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের ট্র্যাক করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সব পক্ষকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে ইবোলা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে কানাডা, বাহামাস ও যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ কঙ্গোসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও কড়াকড়ি আরোপ করেছে।

মানবিক সংস্থা এমএসএফ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে আরও কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। সংস্থাটির মতে, নিরাপত্তাহীনতা, দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত পরীক্ষার অভাবই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।