tanaka

ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন ২২ মামলা, ২৭৫ আসামির ২০৪ জন পলাতক,

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ সরকারের প্রায় দেড় দশকের শাসনামলে গুম, আটক, নির্যাতন ও হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুই বেঞ্চে বর্তমানে...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকআহমেদাবাদে ১৬৬ কথিত বাংলাদেশি আটক, ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু

আহমেদাবাদে ১৬৬ কথিত বাংলাদেশি আটক, ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু

ভারতের গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদে অভিযান চালিয়ে ১৬৬ জন কথিত বাংলাদেশি অভিবাসীকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

অনলাইন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২ ও ৩ জুন রাতে ‘অপারেশন ডেলটা’ নামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আহমেদাবাদ পুলিশ। অভিযানে প্রায় ৩০০ জনকে আটক করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের মধ্যে ১৬৬ জনকে কথিত বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

গুজরাটের বৃহত্তম শহর আহমেদাবাদে চলতি বছরে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এটিই সবচেয়ে বড় অভিযান বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বুধবার দিনশেষে অভিযানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করার কথা রয়েছে গুজরাটের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংহভির।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে আহমেদাবাদ শহর থেকে মোট ৪৬৫ জন বাংলাদেশি অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ অভিযানে আটক ব্যক্তিদের আহমেদাবাদের গায়কোয়াড হাভেলিতে অবস্থিত ডিটেকশন অব ক্রাইম ব্রাঞ্চ (ডিসিবি) কার্যালয়ের ফুটবল মাঠে বসিয়ে রাখা হয়।

অপারেশন ডেলটায় অংশ নেয় ক্রাইম ব্রাঞ্চ, ইকোনমিক অফেন্সেস উইং, সাইবার ক্রাইম ইউনিট, স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ এবং স্থানীয় থানাগুলোর ১০টি পৃথক দল।

আহমেদাবাদের পুলিশ কমিশনার জি.এস. মালিক জানান, উপমুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশনায় গঠিত বিশেষ টিমগুলো মানব গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের ভিত্তিতে সম্ভাব্য অবস্থানগুলো চিহ্নিত করে অভিযান চালায়।

তিনি বলেন, “আমরা প্রায় ৩০০ জনকে আটক করি। যাচাই-বাছাই শেষে ১৬৬ জনকে বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৯৫ জন নারী, ৪১ জন পুরুষ এবং ৩০ জন শিশু রয়েছে। তাদের পরিচয় যাচাইয়ের কাজ এখনও চলমান।”

পুলিশ কমিশনারের দাবি, আটক নারীদের মধ্যে কয়েকজন বিভিন্ন স্পা ও অন্যান্য অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, আর পুরুষরা মূলত শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। অধিকাংশই গত আট মাস থেকে দুই বছর ধরে আহমেদাবাদে বসবাস করছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

যৌথ পুলিশ কমিশনার (জেসিপি) শারদ সিঙ্গালের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অভিযানে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ভারতীয় আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। তবে যাচাই করে এসবের বেশিরভাগই ভুয়া বলে দাবি করেছে পুলিশ। এছাড়া অনেকের কাছে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন নথিপত্রও পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের ভারতে প্রবেশে সহায়তাকারী মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করতেও তদন্ত চালানো হচ্ছে।