আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২–এ আশুলিয়ায় ছয় আন্দোলনকারীকে হত্যা ও লাশ পোড়ানোর মামলায় বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পঞ্চম দিনের মতো সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল বেলা সাড়ে ১১টায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করে। অন্য দুই সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
সাক্ষ্যগ্রহণের শুরুতেই প্রত্যক্ষদর্শী শফিকুল ইসলামকে জেরা করছেন পলাতক আট আসামির পক্ষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা, যাদের মধ্যে দুজন স্টেট ডিফেন্স। এরপর আট নম্বর সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়ার কথা রয়েছে। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করছেন সাইমুম রেজা তালুকদার ও আবদুস সোবহান তরফদার।
এর আগে, ২৩ সেপ্টেম্বর শফিকুল ইসলাম সাত নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। একইদিনে অপর প্রত্যক্ষদর্শী মতিবর রহমানেরও সাক্ষ্য ও জেরা অনুষ্ঠিত হয়।
এই মামলায় ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথম দিনের সাক্ষ্য দেন শহীদ আস সাবুরের ভাই রেজওয়ানুল ইসলাম এবং শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের বাবা মো. খলিলুর রহমান। এরপর ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বরও সাক্ষ্যগ্রহণ হয়।
১৪ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়ায় ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যার পর পুলিশের ভ্যানে তুলে তাদের লাশ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই ঘটনায় একজন তখনও জীবিত ছিলেন, তাকেও জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা হয়—যা মানবতার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন বর্বরতা। এ ঘটনায় ১৬ জনের বিরুদ্ধে বিচার চলছে।
২১ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল অভিযুক্ত ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয়। উপস্থিত আট আসামির মধ্যে সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তবে এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করেন ও রাজসাক্ষী হতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ট্রাইব্যুনাল তার দোষ স্বীকার রেকর্ড করে এবং লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে তাকে রাজসাক্ষী হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হলেন:
- মো. আব্দুল্লাহিল কাফী (সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ঢাকা)
- মো. শাহিদুল ইসলাম (সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সাভার সার্কেল)
- পরিদর্শক আরাফাত হোসেন
- এসআই মালেক
- এসআই আরাফাত উদ্দিন
- এএসআই কামরুল হাসান
- এসআই আবজালুল হক
- কনস্টেবল মুকুল
এ ছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুলসহ আরও আটজন আসামি পলাতক।
২ জুলাই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে জমা দেয় প্রসিকিউশন। এতে ৩১৩ পৃষ্ঠার বিবরণ, ৬২ জন সাক্ষী, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণ এবং দুটি পেনড্রাইভ সংযুক্ত করা হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ আমলে নেয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশ গুলিতে ছয় তরুণ নিহত হন। এরপর তাদের মরদেহ পুলিশ ভ্যানে তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই নৃশংস ঘটনায় ১১ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করা হয়।



