আর্থিক সংকটের কারণে নবম পে স্কেলের আগের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়নের সম্ভাবনা কমে গেছে। রাজস্ব আয়ের ওপর চাপ, বাজেট ঘাটতি, ঋণ পরিশোধের দায় এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোয় কাটছাঁটের দিকেই এগোচ্ছে সরকার।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন গ্রেডের মূল বেতন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাতাসহ কয়েকটি সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। আগে সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেতন-ভাতা বৃদ্ধির সুপারিশ থাকলেও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব নাও হতে পারে।
এদিকে ধাপে ধাপে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সফটওয়্যার আপডেট, হিসাবরক্ষণ, পেনশন পুনর্নির্ধারণ এবং বেতন সমন্বয়সহ কয়েকটি প্রযুক্তিগত জটিলতা রয়েছে। এসব সমস্যা কীভাবে কমিয়ে আনা যায়, সে বিষয়েও কাজ করছে পুনর্গঠিত সচিব কমিটি।
সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে সচিব কমিটির পঞ্চম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না; বরং নির্ধারিত প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, চলতি জুলাই মাসের শেষ নাগাদ সচিব কমিটি তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিতে পারে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন, আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং এবং গেজেট প্রকাশের পরই কার্যকর হবে নবম পে স্কেল।
সূত্র আরও জানিয়েছে, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মীদের বেতন ও ভাতা তুলনামূলক বেশি বাড়তে পারে। অন্যদিকে ১ থেকে ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম রাখার সুপারিশ আসতে পারে।



