tanaka

কেন মাঠে নেমেছে এনসিপি, জানালেন নাহিদ ইসলাম

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রতিবাদে আগামী ৩০ অক্টোবর গণবিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।...
প্রচ্ছদসারাদেশ‘আমি এখন বিএনপি নেতা’, সাংবাদিককে ইউএনও

‘আমি এখন বিএনপি নেতা’, সাংবাদিককে ইউএনও

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক বক্তব্যের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদারের হাততালি দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে সমালোচনার মধ্যে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘ইউএনও হচ্ছে নাউ ওয়ান অব দ্য বিএনপি লিডারস অব পীরগঞ্জ।’ একই সঙ্গে বক্তব্যের একটি অংশ ক্লিপ করে প্রচার করতে এবং তাঁকে সারা দেশে ভাইরাল করে দিতে সাংবাদিকদের বলেন তিনি।

সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান পীরগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর সেনগাঁও ইউনিয়নের আমতলী শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দির পরিদর্শনে যান। সেখানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বর্তমান চেয়ারম্যান সাইদুর রহমানের নাম উল্লেখ করেন। এ সময় উপস্থিত লোকজনকে তাঁর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান সংসদ সদস্য।

বক্তব্যে জাহিদুর রহমান বলেন, তাঁকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন ভোটাররা। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও বিএনপি থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান প্রার্থী হবেন। তাঁকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

দুই মিনিটের বেশি সময় ধরে দেওয়া ওই বক্তব্যের সময় সংসদ সদস্যের পাশে বসা ইউএনও গোলাম রব্বানী সরদারকে হাততালি দিতে দেখা যায়। ভিডিওতে বক্তব্যের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁকে করতালি দিয়ে সমর্থন জানাতেও দেখা গেছে। সরকারি দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তার এমন আচরণ নিয়ে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোবাইল ফোনে সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেন ইউএনও গোলাম রব্বানী সরদার। তিনি বলেন, ‘তাহলে লিখে দেন, এমপির সঙ্গে ইউএনও নির্বাচনি প্রচারণায়। আপনি শোনেন, এভাবে বলেন যে ইউএনও হচ্ছে “নাউ ওয়ান অব দ্য বিএনপি লিডারস অব পীরগঞ্জ”। ঠিক আছে?’

নিজের অবস্থানের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ইউএনও আরও বলেন, ‘যে সরকার থাকত, যে দলের সরকার থাকত, আমি সেই দলেরই নেতা। বোঝা গেছে মেসেজটা? আমার দল আছে। আমার দল কী? সরকারি দল। আমার আদর্শ সরকারি দলের আদর্শ।’

এরপর সাংবাদিককে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘তাহলে আপনার ওই অংশটুকুই খালি ক্লিপে বের করেন আর লিখে দেন, যাতে করে আমি একটু ভাইরাল হই সারা দেশে। আই ওয়ান্ট টু বি ভাইরাল, ওকে?’

তিনি আরও বলেন, ‘এগুলোর বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা আমার কেন, আমার সেক্রেটারিরই নাই, আমার ডিসি স্যারের নাই, আমার কমিশনার স্যারের নাই। পরিষদের আমি প্রশাসনিক কর্মকর্তা। সব কাজ সংসদ সদস্যকে জিজ্ঞেস করে করতে হবে। চিঠি আছে আমার কাছে, দেখবেন আপনি?’

ইউএনওর এমন আচরণের সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু সায়েম। তিনি বলেন, ‘একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে একজন এমপির রাজনৈতিক বক্তব্যে হাততালি দিতে পারেন? যেখানে এমপি আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একজনকে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিচ্ছেন, সেখানে ইউএনও অতিউৎসাহী হয়ে সবার আগে হাততালি দিয়ে সমর্থন জানাচ্ছেন, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

ঘটনাটি ঘিরে সরকারি কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা ও রাজনৈতিক বক্তব্যের সময় তাঁদের আচরণ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।