প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্যারাসেইলিংয়ের সময় প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট ওপরে ওঠার পর হঠাৎ তিনি ছিটকে বঙ্গোপসাগরে পড়ে যান। পরে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্যারাসেইলিংয়ে ওঠার আগে অক্ষরকে সতর্ক করেছিলেন বড় বোন মেধা মৃত্তিকা। তাঁর স্বামী জানান, তাঁরা বারবার অক্ষরকে উঠতে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অক্ষর প্যারাসেইলিংয়ে ওঠেন। আকাশে ওড়ার সেই কয়েক মিনিটই যে তাঁর জীবনের শেষ সময় হয়ে যাবে, তা কেউ ভাবতে পারেননি।
অক্ষরের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি রয়েছে ক্ষোভও। তাঁদের অভিযোগ, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দরিয়ানগরে প্যারাসেইলিং চলছিল। দুর্ঘটনার সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও উদ্ধারব্যবস্থা ছিল না বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।
পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারাসেইলিং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, অক্ষরের মরদেহ খুলনায় ফিরিয়ে আনতেও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁদের।
শোকের মধ্যেও পরিবারের সদস্যরা নিরাপদ পর্যটনব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। অক্ষরের ভগ্নিপতি বলেন, তাঁদের প্রিয় মানুষটি আর ফিরে আসবেন না। তবে ভবিষ্যতে যেন আর কোনো পরিবারকে এমন কষ্ট পেতে না হয়, সেটিই তাঁদের প্রত্যাশা। পাশাপাশি তাঁরা অক্ষরের পরিবারের জন্য ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবিও জানিয়েছেন।
শেষ পর্যন্ত লাশবাহী গাড়িটি প্রস্তুত হয় রূপসা মহাশ্মশানের উদ্দেশে যাত্রার জন্য। যে বাড়ির সামনে কিছুক্ষণ আগেও মা ছেলেকে একবার কোলে নেওয়ার আকুতি জানাচ্ছিলেন, সেই বাড়ি থেকেই এবার অক্ষরকে নিয়ে যাওয়া হলো শেষবিদায়ের পথে।
গাড়িটি গলি পেরিয়ে চোখের আড়ালে চলে যায়। তবু বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন স্বজনেরা। ভেতর থেকে তখনও ভেসে আসছিল কান্নার শব্দ।



