tanaka

জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে তানজিম ইবনে ওয়াহাবের নিয়োগ নবায়ন

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে তানজিম ইবনে ওয়াহাবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ আরও এক বছরের জন্য নবায়ন করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে...
প্রচ্ছদসারাদেশআগামীকাল ভোট

আগামীকাল ভোট

২০ দিনের প্রচার-প্রচারণার পরীক্ষা শেষ। এখন অপেক্ষা ভোটের। রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। দীর্ঘ সময় পর দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে একটি জাতীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে। গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ছাড়া প্রায় সব রাজনৈতিক দলই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন দুই জোট। একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট—দেশের ইতিহাসে এটাই প্রথম।

২০২৪-পরবর্তী সংস্কারের লক্ষ্যে প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদের বৈধতা নিশ্চিত করতে ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দেবেন। নানা দিক থেকে এবারের নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনগণের প্রত্যাশিত নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়েই মাঠে নেমেছে প্রধান দুই জোট। যদিও এতদিন পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল, তবু ভোটের দিন ঘিরে কিছু শঙ্কা রয়ে গেছে।

বিশেষ করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও নির্বাচনের বাইরে থাকা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নাশকতার আশঙ্কার কথা আগে থেকেই বলা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যেও এমন ইঙ্গিত মিলেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। গেল বছর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিলে শুরু হয় নানা জল্পনা-কল্পনা। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশন শেষ পর্যন্ত নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে কি না—তা নিয়েও সংশয় ছিল। তবে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নির্বাচন কমিশন এখন ভোটের দ্বারপ্রান্তে।

নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার মানবজমিনকে বলেন, “এবারের নির্বাচন ছিল বড় চ্যালেঞ্জের। আমরা আশা করছি, অতীতের সব অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারব।”

এবারের সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ৫১টি রাজনৈতিক দল। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজারের বেশি। এর মধ্যে প্রায় আড়াইশ’ স্বতন্ত্র প্রার্থী, বাকিরা দলীয় মনোনীত। তফসিল ঘোষণার পর থেকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সাড়ে তিন শতাধিক অভিযোগ পেয়েছে ইসি, যার অর্ধেকই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় পর্যায়ে আরও সাড়ে চারশ’ অভিযোগের ভিত্তিতে প্রায় ৩২ লাখ টাকা জরিমানা এবং ২১২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিচারিক অনুসন্ধান কমিটিতে আসা ২৩৭টি অভিযোগ সতর্কতা ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে।

ভোট আয়োজনকে ঘিরে আট লাখের বেশি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে থাকবেন ৯ লাখেরও বেশি সদস্য। সব প্রস্তুতি শেষ—এখন কেবল ভোটের অপেক্ষা।