ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগে বিএনপি’র তিন প্রার্থীর নির্বাচনে অংশগ্রহণে আপাতত কোনো বাধা নেই। তারা হলেন— ঢাকা-১১ আসনের এম এ কাইয়ুম, বগুড়া-১ আসনের কাজী রফিকুল ইসলাম এবং কুমিল্লা-৩ আসনের কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ)। এর মধ্যে দুই প্রার্থীর বৈধতা নিয়ে করা লিভ টু আপিলের শুনানি হবে নির্বাচনের পর। অন্যদিকে, কুমিল্লা-৩ আসনের প্রার্থীর বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে ঢাকা-১১ আসনের এম এ কাইয়ুম ও বগুড়া-১ আসনের কাজী রফিকুল ইসলামের লিভ টু আপিল শুনানির জন্য দিন নির্ধারিত ছিল। তবে আপিল বিভাগ ‘নট টুডে’ (আজ নয়) আদেশ দেন। বিএনপি’র প্রার্থীদের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম ও রুহুল কুদ্দুস কাজল। আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন ও ব্যারিস্টার শাহ নেওয়াজ।
ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলে ২ ফেব্রুয়ারি প্রার্থিতা স্থগিত চেয়ে রিট করেন নাহিদ ইসলাম। শুনানি শেষে ৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রিটটি সরাসরি খারিজ করেন। পরে ৫ ফেব্রুয়ারি ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় লিভ টু আপিল করেন নাহিদ ইসলাম। আবেদনে দাবি করা হয়, কাইয়ুম ভানুয়াতুর নাগরিক। নাহিদের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন ও আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ। কাইয়ুমের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম ও রুহুল কুদ্দুস কাজল।
বগুড়া-1 আসনে বিএনপি’র প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলামের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে ঋণখেলাপির অভিযোগে একই আসনের বিএনপি’র মনোনয়নপ্রত্যাশী আহসানুল তৈয়ব জাকির এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নির্বাচন কমিশনে তার প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে আপিল করেন। তবে তারা আপিল প্রত্যাহার করে নেন। এরপর জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সাহাবুদ্দিন হাইকোর্টে রিট করে মনোনয়নপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করলে হাইকোর্ট রিট খারিজ করেন। পরবর্তীতে তিনি হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন।
কুমিল্লা-৩ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ)-এর প্রার্থিতা রিটার্নিং কর্মকর্তা বৈধ ঘোষণা করেন। দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগ তুলে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইউসুফ সোহেল নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন, যা খারিজ হয়। এরপর তিনি হাইকোর্টে রিট করলে সেটিও খারিজ হয়। পরবর্তীতে আপিল বিভাগেও তার করা লিভ টু আপিল খারিজ করা হয়েছে।
এর আগে ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ আদেশ দেন, দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচনে জয়ী হলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি’র দুই প্রার্থীর গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকবে। তারা হলেন— চট্টগ্রাম-৪ আসনের আসলাম চৌধুরী ও চট্টগ্রাম-২ আসনের সারোয়ার আলমগীর। এছাড়া কুমিল্লা-১০ আসনের মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া ও শেরপুর-২ আসনের ফাহিম চৌধুরীর প্রার্থিতার বৈধতা আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তাদের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল মঞ্জুর হয়ে আপিল বিভাগের নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।



