আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার বিষয়টি আইনগতভাবে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নয়াপল্টনের কার্যালয়ে যান তিনি। নেতাকর্মী, সমর্থক ও অফিসকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম তিনি দলীয় কার্যালয়ে যান।
‘অনেক জায়গায় আওয়ামী লীগের অফিস খোলা হচ্ছে’—এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এটা আমরা চাইনি। যেহেতু আইনগতভাবে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ বলে বলা আছে, সেভাবেই বিষয়টি দেখা হবে—সব জায়গায়।”
৬টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে যাচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “না। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে সরকারি কিছু নিয়মকানুন রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মেয়াদ আছে, কোথাও মেয়াদ শেষ হয়েছে। সবকিছু সমন্বয় করে সরকার যথাসময়ে নির্বাচন দেওয়ার ব্যবস্থা করবে। তবে এ নির্বাচনকে অবশ্যই প্রাধান্য দেওয়া হবে।”
সংসদে নারী আসনে দলীয় প্রার্থীর যোগ্যতা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “নারী আসনের নির্বাচন সংসদের সিদ্ধান্তের বিষয়। প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলের আদর্শ ও নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা, জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক এবং দলের জন্য ত্যাগ—এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। যারা দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং ত্যাগ-তিতিক্ষা স্বীকার করেছেন, তাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”
একই পরিবারের দুই সদস্যকে নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়া হবে কি না—এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাবে না। এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।”
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের শুরুতে তিনি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া–কে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, “আমাদের এই কেন্দ্রীয় কার্যালয় অত্যন্ত প্রিয়। এখান থেকেই গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বহু কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে আমরা এই কার্যালয়ের সামনে বহু সমাবেশ করেছি, যা জনগণকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯০-এর গণআন্দোলন, ১৯৯১ সালে সরকার গঠন, ১৯৯৬-সহ পরবর্তী বিভিন্ন আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। আমরা তাঁর অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি এবং মহান আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য দোয়া করি।”
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাবে বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “আমরা নতুন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল আরও শক্তিশালী হবে—এ ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।”
এদিকে, দীর্ঘদিনের নীরবতা কাটিয়ে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আবার সরব পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। সোমবার সকাল থেকেই নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি বাড়তে দেখা যায়। সকাল ১১টার দিকে মির্জা ফখরুল কার্যালয়ে পৌঁছালে তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান দলের নেতারা।
তিনি কার্যালয়ের তিন তলায় নিজ চেম্বারে বসে দপ্তরের সহ-সম্পাদকদের নিয়মিত অফিস করার নির্দেশ দেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের খোঁজখবর নিয়ে তিনি বলেন, “নিয়মিত অফিস করতে হবে। কোনো কাজ ফেলে রাখা যাবে না। দূর-দূরান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করতে হবে—এ ক্ষেত্রে কোনো শিথিলতা চলবে না।”
প্রায় ৪৫ মিনিট অবস্থান শেষে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সচিবালয়ের উদ্দেশ্যে কার্যালয় ত্যাগ করেন।



