tanaka
প্রচ্ছদতথ্যপ্রযুক্তিঅ্যাপলের নতুন সিইও জন টার্নাস, সামনে বড় দুই চ্যালেঞ্জ

অ্যাপলের নতুন সিইও জন টার্নাস, সামনে বড় দুই চ্যালেঞ্জ

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন জন টার্নাস। এমন এক সময়ে প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে আসছেন তিনি, যখন স্মার্টফোনের বাজারে অ্যাপলের অবস্থান এখনো শক্তিশালী হলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে।

নতুন সিইও হিসেবে টার্নাসের সামনে প্রধান দুটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে—চীনের ওপর অ্যাপলের গভীর সরবরাহ ও উৎপাদননির্ভরতা সামাল দেওয়া এবং হোয়াইট হাউসের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলা করা।

টার্নাসের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে অ্যাপলের নেতৃত্বে টিম কুকের প্রায় ১৫ বছরের অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটছে। কুক মূলত অপারেশনস বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত এবং তার নেতৃত্বে অ্যাপল একটি বিশাল ও দক্ষ বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন প্রকৌশলী টার্নাস, যিনি দীর্ঘদিন ধরে অ্যাপলের হার্ডওয়্যার পণ্য উন্নয়ন ও উৎপাদনের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।

৫১ বছর বয়সী টার্নাস ২০০১ সালে অ্যাপলের ডিজাইন দলে যোগ দেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে ধাপে ধাপে তিনি প্রতিষ্ঠানের হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে উঠে আসেন। এ সময় তিনি সরাসরি টিম কুকের কাছে রিপোর্ট করতেন।

অ্যাপলের প্রায় পুরো পণ্যসারির প্রকৌশল কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিয়েছেন টার্নাস। এর মধ্যে রয়েছে আইফোন—যা এখনো কোম্পানিটির সবচেয়ে বড় আয়ের উৎস।

তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন সিইও খুব বেশি সময় হাতে পাচ্ছেন না। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে অ্যাপলের বার্ষিক আইফোন উন্মোচন অনুষ্ঠান। ধারণা করা হচ্ছে, এবারের আয়োজনে প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো ভাঁজ করা যায় এমন আইফোন বাজারে আনার ঘোষণা দিতে পারে।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইয়র্কভিল আইভস অ্যান্ড কো.-এর পার্টনার ও সিনিয়র ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড্যান আইভস মনে করেন, টিম কুক অ্যাপলকে একটি সুসংগঠিত অবস্থায় রেখে যাচ্ছেন। এখন টার্নাসের প্রধান কাজ হবে এআইয়ের নতুন যুগে অ্যাপলকে কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সেই কৌশল নির্ধারণ করা।

আইভসের মতে, টার্নাস তার সবচেয়ে পরিচিত ক্ষেত্র—হার্ডওয়্যার—নিয়ে বেশি মনোযোগী হতে পারেন। ইতোমধ্যে অ্যাপলের যে বিষয়গুলো ভালোভাবে কাজ করছে, সেগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার প্রয়োজন নেই বলেও মনে করেন তিনি।

বিশ্লেষকদের ধারণা, টার্নাসের নেতৃত্বে অ্যাপল হার্ডওয়্যারে নতুনত্ব আনার দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে পারে। একই সঙ্গে টিম কুকের সময় গড়ে ওঠা সরবরাহব্যবস্থাতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।

তবে এআইয়ের প্রতিযোগিতায় অ্যাপলের তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। কোম্পানির সফটওয়্যার বিভাগের প্রধান ক্রেইগ ফেডেরিগিকে সিইও পদের জন্য আরও স্বাভাবিক পছন্দ হিসেবে দেখেছিলেন কিছু বিশ্লেষক।

টার্নাসের পক্ষে থাকা বিশ্লেষকদের যুক্তি অবশ্য ভিন্ন। তাদের মতে, অ্যাপলের ব্যবসায় এখনো হার্ডওয়্যারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। বিশ্লেষক মিলানেসির ভাষায়, ভোক্তারা এখনো প্রথমে হার্ডওয়্যারই কিনছেন এবং ভবিষ্যতেও এর গুরুত্ব থাকবে। কারণ, হার্ডওয়্যারকে কেন্দ্র করেই ব্যবহারকারীরা এআইসহ নতুন প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণ করেন।

সব মিলিয়ে টার্নাসের সামনে এখন মূল পরীক্ষা হবে—অ্যাপলের শক্তিশালী হার্ডওয়্যার ব্যবসা ও সরবরাহব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কীভাবে প্রতিষ্ঠানটিকে এআই প্রতিযোগিতায় আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাওয়া যায়।