দেশে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যানসার, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সরকারের সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে গঠিত ‘অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সমন্বয় কমিটির’ প্রথম উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. নাসিমুল গনি। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় যৌথ ঘোষণায় স্বাক্ষরকারী ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব ও সচিবরা অংশ নেন।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় কারিগরি সহযোগিতা দেয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহাম্মদ।
সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত চিন্তার বাইরে গিয়ে উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ এবং সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সঙ্গে জনসাধারণকে নিয়মিত হাঁটাচলা ও শারীরিক পরিশ্রমে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধে বেশি গুরুত্ব দিতে পারলে অসংক্রামক রোগের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।”
সভায় জানানো হয়, বর্তমানে দেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশেরও বেশি অসংক্রামক রোগজনিত। এর মধ্যে প্রায় ৫১ শতাংশ মৃত্যু অকালমৃত্যু হিসেবে বিবেচিত, যা দেশের অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অংশগ্রহণে একটি যৌথ ঘোষণা স্বাক্ষরিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সমন্বয় কমিটি গঠন করে গেজেট প্রকাশ করা হয়।
সভায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ যৌথ ঘোষণা বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য একজন করে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে মনোনয়ন দেবে। তাদের জন্য ডব্লিউএইচওর সুপারিশ অনুযায়ী ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।
এ ছাড়া আগামী এক থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নিজ নিজ খাতভিত্তিক সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে, যেখানে মনিটরিং কাঠামো ও পরিমাপযোগ্য সূচক অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সভায় ‘হেলথ ইন অল পলিসিস’ বা ‘সব নীতিতে স্বাস্থ্য’ ধারণা বাস্তবায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়। উন্নয়ন পরিকল্পনা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন কর্মসূচিতে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বানও জানানো হয়।
পাশাপাশি দেশব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় সম্পদ ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা, নিয়মিত অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং মাঠপর্যায়ের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহাম্মদ বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র কর্মকর্তা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ ও যৌথ ঘোষণা বাস্তবায়ন বিষয়ে তাদের মতামত, অভিজ্ঞতা ও সুপারিশ তুলে ধরেন।



