খাগড়াছড়ির রামগড়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা শর্টগান থেকে ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, থানার ওসিসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১২ মে) উপজেলার বলিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শামীম, রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজির আলম, সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল ওহাব, আনসার সদস্য নুর মোহাম্মদ, মো. সালাউদ্দিন, খোরশেদ আলম ও নুর আহাম্মদ। এছাড়া ইউএনওর গাড়িচালক কামাল হোসেন, অফিস সহকারী জয়নাল আবেদীন, পিয়ন মো. হারুন, পৌরকর্মী শিহাব এবং স্থানীয় বাসিন্দা মো. আজাদ হোসেন, সুমন ত্রিপুরা, নূর হোসেন ও আবুল হাসান আহত হয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযানের সময় কৃষি সেচের কাজে ব্যবহৃত তিনটি স্যালো মেশিন ভাঙচুর করা হয়। এর প্রতিবাদ করলে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে উত্তেজিত গ্রামবাসীরা পাল্টা ধাওয়া দেয়।
রামগড় থানার ওসি মোহাম্মদ নাজির আলম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে।
অন্যদিকে ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শামীম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বলিপাড়া এলাকায় প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে কৃষিজমি খনন করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় বালু উত্তোলনকারীদের সহযোগিতায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
তিনি আরও বলেন, হামলায় অভিযানে অংশ নেওয়া অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে। স্যালো মেশিন ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



