প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন করে যুক্ত হলেন আরও চারজন। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মন্ত্রী হিসেবে শপথ পড়ানো হয়। এর মধ্য দিয়ে সরকারের মন্ত্রিসভা আরও সম্প্রসারিত হলো।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই তিনি নতুন মন্ত্রিসভার চার সদস্যকে শপথ পড়ান। রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানের পরই নতুন মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
শপথ নেওয়া চার নতুন মন্ত্রী হলেন—বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং জামালপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
নতুন চার মন্ত্রীর মধ্যে আবদুল মঈন খান বিএনপির স্থায়ী কমিটির গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি এর আগেও সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাকে সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আন্দালিভ রহমান পার্থ বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি ভোলা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় তাকে অন্তর্ভুক্ত করার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক জোট ও অংশীদারদের প্রতিনিধিত্ব আরও বিস্তৃত হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তার মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি দেশের পার্বত্য এলাকার রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্ব বহন করছে। অন্যদিকে জামালপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতও নতুন মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়ে সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়ে কাজ করার সুযোগ পেলেন।
নতুন চার সদস্যের শপথের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় আরও কয়েকজন অভিজ্ঞ ও বিভিন্ন অঞ্চলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যুক্ত হলেন। এর আগে গঠিত মন্ত্রিসভায় বিএনপির পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব ছিল। নতুন নিয়োগের ফলে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই প্রতিনিধিত্ব আরও বিস্তৃত হয়েছে।
শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গভবনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে একই দিনে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ এবং মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ—দুটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক ঘটনা সম্পন্ন হলো।
নতুন মন্ত্রীরা দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ে সরকারের ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তাদের দায়িত্ব ও মন্ত্রণালয় বণ্টন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী সময়ে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় মন্ত্রিসভায় এই নতুন সংযোজনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চার নতুন মন্ত্রীর শপথের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভার পরিধি আরও বাড়ল।



