tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদরাজনীতিকিছু রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডে পতিত ফ্যাসিস্টরা উৎসাহিত হচ্ছে: রিজভী

কিছু রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডে পতিত ফ্যাসিস্টরা উৎসাহিত হচ্ছে: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের কিছু রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড, বক্তব্য ও অযৌক্তিক দাবির কারণে পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ আবারও উৎসাহিত হচ্ছে। দেশকে অস্থিতিশীল করতে তারা ‘লকডাউন’ কর্মসূচির নামে জ্বালাও-পোড়াও ও হত্যার মতো কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে নিয়ে মাসব্যাপী ভিডিও কনটেন্ট নির্মাণ প্রতিযোগিতা উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, “দেশ আজ এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হলো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দিতে হবে। অথচ কয়েকটি রাজনৈতিক দল ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন ও গণভোটের দাবিতে রাজপথে নেমে দেশকে অস্থিতিশীল করছে। এই সুযোগে পতিত স্বৈরাচাররা সক্রিয় হয়ে উঠছে।”

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ গত সাড়ে ১৫ বছর দেশে স্বৈরতন্ত্র কায়েম করেছিল। বিরোধী মতের সবাইকে হামলা-মামলা, জেল-রিমান্ডের মধ্য দিয়ে দমন করা হয়েছে। হাজার হাজার বিএনপি নেতাকর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন। সর্বশেষ জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শত শত ছাত্র-জনতাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা নিজেই। তাই শেখ হাসিনার বিচার হতেই হবে। লকডাউন দিয়ে তার বিরুদ্ধে রায় ঠেকানো যাবে না।”

রিজভী অভিযোগ করেন, “শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যরা লাখ লাখ কোটি টাকা লুটপাট ও বিদেশে পাচার করেছেন। আওয়ামী লীগের বহু মন্ত্রী ও এমপি লন্ডন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বিলাসবহুল বাড়ি ও ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন— যা এদেশের জনগণের ঘামের টাকায় গড়া।”

তিনি বলেন, “দেশের জনগণ অনেক আগেই আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ‘লকডাউন’ দিয়ে রেখেছে। এখন বিদেশে বসে যতই লকডাউনের কর্মসূচি দেওয়া হোক, তাতে কোনো লাভ নেই। গত তিন দিনে ফ্যাসিস্টের দোসররা সারাদেশে বাস ও ট্রেনে আগুন দিয়েছে। এতে ড্রাইভার নিহত হয়েছেন। আগুন দিয়ে দোষ চাপানোর এই সংস্কৃতি আওয়ামী লীগের পুরনো অভ্যাস।”

আসন্ন নির্বাচনে দলীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, “বহু আসনে একাধিক যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন। দল একজনকে মনোনয়ন দিয়েছে— সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে তাকে বিজয়ী করতে হবে। মনোনয়ন না পাওয়া নিয়ে বিভেদ সৃষ্টি করা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের পরিপন্থি।”

লকডাউনের নামে মানুষ হত্যা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “অবৈধ ক্ষমতা পুনরুদ্ধার ও বিচার প্রতিহত করতে আওয়ামী লীগ লকডাউনের নামে মানুষ পুড়িয়ে মারছে। আগুনে মানুষ হত্যা করা তাদেরই পুরনো কৌশল— যা আবারও প্রমাণিত হলো।”

রিজভী আরও বলেন, “বিএনপি কখনো সাধারণ মানুষের ক্ষতি করে না। যারা গণতন্ত্রের জন্য জীবন বাজি রেখে আন্দোলন করে, তারা জনগণের শত্রু নয়। প্রকৃত শত্রু হচ্ছে সেই স্বৈরাচারী শক্তি, যারা ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে জনগণের কণ্ঠরোধ করেছে।”

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “জিয়া ছিলেন স্বনির্ভর অর্থনীতির স্থপতি। তিনি গণতন্ত্র, উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে দেশকে এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন। তিনি কখনো স্বেচ্ছাচারী ছিলেন না, বরং গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমেই দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।”

তারেক রহমানের নেতৃত্ব সম্পর্কে রিজভী বলেন, “তিনি সবসময় শালীন ভাষায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে জবাব দেন। দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও জনগণের ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে তাঁর অঙ্গীকার সুস্পষ্ট।”

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “মনোনয়ন নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা থাকতে পারে, কিন্তু বাইরে বিভক্তি দেখা দেওয়া ঠিক নয়। আমাদের লক্ষ্য ব্যক্তি নয়— ধানের শীষের বিজয়। এই বিজয়ের সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র জড়িত।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করীম শাহিনসহ অন্য নেতারা।