tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদসর্বশেষ সংবাদঅর্থনীতিনেদারল্যান্ডসে ছয় বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি দ্বিগুণের বেশি

নেদারল্যান্ডসে ছয় বছরে বাংলাদেশের রপ্তানি দ্বিগুণের বেশি

গত ছয় অর্থবছরে ইউরোপের দেশ নেদারল্যান্ডসে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে যেখানে রপ্তানি ছিল ১ দশমিক ০৯ বিলিয়ন ডলার, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারে। এর বড় অংশ এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এর তথ্যানুযায়ী, ছয় বছরে রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার ১১৫ শতাংশেরও বেশি। এই প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের দৃঢ়তা প্রকাশ করে।

শুধু গত এক অর্থবছরেই (২০২৩-২৪ থেকে ২০২৪-২৫) রপ্তানি বেড়েছে ২১ দশমিক ৮ শতাংশ। এই সময়ে তৈরি পোশাক খাত থেকে আয় হয়েছে ২ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২১ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে নিটওয়্যার থেকে আয় ৩১ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার, আর ওভেন পোশাক থেকে আয় ৮৭৯ মিলিয়ন ডলার—যা আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ বেশি।

তৈরি পোশাক ছাড়াও উল্লেখযোগ্য রপ্তানিপণ্যের মধ্যে ছিল:

  • টেক্সটাইল সামগ্রী ও পুরাতন বস্ত্রজাত পণ্য: ৫০ মিলিয়ন ডলার
  • পাদুকা ও অনুরূপ সামগ্রী: ৯৬ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন ডলার
  • হেডগিয়ার: ৭ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন ডলার

রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু ইতিবাচক কারণ কাজ করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে রয়েছে:

  • পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন
  • সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থার উন্নতি
  • টেকসই উৎপাদন
  • সময়মতো সরবরাহ
  • পণ্যবৈচিত্র্য বৃদ্ধি

তারা মনে করেন, এই প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে হলে বাংলাদেশকে উচ্চমূল্যের নতুন খাতে—যেমন ওষুধ, আইসিটি এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্য—রপ্তানির দিকেও মনোযোগ দিতে হবে।

প্রদর্শনী ও বাজার সম্প্রসারণ

নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামে ইউরোপীয় ক্রেতাদের জন্য আয়োজিত ‘দ্য বেস্ট অব বাংলাদেশ ইন ইউরোপ’ শীর্ষক প্রদর্শনী রপ্তানি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ অ্যাপারেল এক্সচেঞ্জের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা উদ্ভাবনী পণ্য তুলে ধরেন এবং নতুন ক্রেতাদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য অর্ডার পান।

ফ্যাশন সচেতন নেদারল্যান্ডস

নেদারল্যান্ডসের ভোক্তারা ফ্যাশনসচেতন এবং পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রতি আগ্রহী। বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও ডেনিম এক্সপার্টের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল জানান, “বাংলাদেশ টেকসই উৎপাদনে ভালো অগ্রগতি করেছে, যা পরিবেশ সচেতন নেদারল্যান্ডসের বাজারে আমাদের পণ্যকে এগিয়ে দিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, নেদারল্যান্ডসের মাধ্যমে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও পণ্য প্রবেশ করে, যা রপ্তানি আয় বৃদ্ধির একটি সম্ভাব্য কারণ।

খাত বৈচিত্র্যের প্রয়োজনীয়তা

অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে নেদারল্যান্ডসে রপ্তানির পরিধি বাড়াতে হলে তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প খাত—যেমন চামড়াশিল্প—উন্নয়নে জোর দিতে হবে। তবে, এর জন্য পরিবেশ ও শ্রম সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে ট্যানারি খাতকে শৃঙ্খলায় আনতে হবে।

তিনি বলেন, “ইইউর মানদণ্ড না মানলে বাজারে প্রবেশ সীমিত হবে। তাই এখন প্রয়োজন বৈচিত্র্যময়, মানসম্পন্ন ও মূল্য সংযোজিত পণ্যে নজর দেওয়া।”

ড. জাহিদ আরও বলেন, “নেদারল্যান্ডসে রপ্তানির ক্রমবর্ধমান প্রবণতা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক। নতুন খাতের অনুসন্ধান ও বিদ্যমান সক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশ কেবল এই বাজারেই নয়, ইউরোপজুড়েই শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে পারে।”