সাভারের আশুলিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত পোশাক শ্রমিক সুমন পাটোয়ারী (২১) হত্যা মামলার অধিকাংশ আসামিই এখনো পলাতক রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, মামলার কয়েকজন আসামি ইতোমধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডের পটভূমি:
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট দুপুরে সুমন পাটোয়ারী নিজ বাসা থেকে বের হয়ে বাইপাইল মোড়ে ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে যোগ দিতে আসেন। সে সময় আন্দোলনরতদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী। জীবন বাঁচাতে দৌড়ানোর সময় বাইপাইল মোড়ে পেছন দিক থেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন সুমন।
মামলার অগ্রগতি:
ঘটনার পর নিহত সুমনের বাবা ওমর ফারুক বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিদের একজন, সাভার যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ সালাউদ্দিন, বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগপন্থী বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন।
পুলিশ জানায়, মামলার কয়েকজন নামীয় আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরেকটি হত্যা মামলা:
একই দিনে, ৫ আগস্ট সাভারের মুক্তির মোড়ে ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী মো. আব্দুল আহাদ সৈকতও নিহত হন। তার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার অন্যতম আসামিও সৈয়দ সালাউদ্দিন। সেই মামলার এজাহারে বলা হয়, আন্দোলনে যোগ দেওয়ার পর সন্ধ্যায় আসামিদের নির্দেশনা ও উসকানিতে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে উল্লেখ করে ১২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় এবং আরও ২৫০–৩০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।
জনতার প্রতিক্রিয়া:
এই ঘটনাগুলোর পর, ক্ষুব্ধ জনতা সাভারের মুক্তির মোড় এলাকায় সৈয়দ সালাউদ্দিনসহ কয়েকজন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে ভাঙচুর চালায়।



