২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর দমন-পীড়নের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আজ (বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর) ১৭তম দিনের মতো রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা অনুষ্ঠিত হবে।
এই মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং আরও একজন। আজকের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের ৪৬তম সাক্ষী হিসেবে তৃতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য দেবেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান।
এদিন ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে মামলার গুরুত্বপূর্ণ রাজসাক্ষী ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও।
ট্রাইব্যুনালের বিচার প্যানেল:
সাক্ষ্যগ্রহণের কাজটি পরিচালনা করছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মাহমুদুর রহমানের সাক্ষ্য ও জেরা:
- সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মাহমুদুর রহমান এই মামলায় প্রথম দিনের সাক্ষ্য দেন।
- মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় দিনের সাক্ষ্যে তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন, যার পরপরই তার জেরা শুরু করেন আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী মো. আমির হোসেন।
- আজ সাক্ষ্যগ্রহণের তৃতীয় দিনে তার জেরা অব্যাহত থাকবে।
অতীতের সাক্ষ্যগ্রহণ:
- গত বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) মামলার ১৫তম দিনে মাহমুদুর রহমান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সাক্ষ্য দেয়ার কথা থাকলেও ব্যক্তিগত কারণে তারা উপস্থিত হতে পারেননি।
- মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) মামলার ১৪তম দিনে ছয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
- রাষ্ট্রপক্ষের ৪৫তম সাক্ষী হিসেবে সিআইডি’র ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবের সাব-ইন্সপেক্টর মো. শাহেদ জোবায়ের লরেন্স তার জবানবন্দি পেশ করেন।
- এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর (সোমবার) ১৩তম দিনে তিনজনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়।
- গত ২ সেপ্টেম্বর ৩৬তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন মামলার অন্যতম রাজসাক্ষী ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, যার জেরা শেষ হয় ৪ সেপ্টেম্বর।
সারসংক্ষেপ:
এই মামলায় এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রপক্ষের ৪৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে। গত ৩ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই সাক্ষ্যগ্রহণ প্রক্রিয়া ধারাবাহিকভাবে চলমান রয়েছে।



