ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমানো এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক যৌথভাবে ১৮ মাসের একটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ পরিকল্পনার আওতায় খেলাপি ঋণ আদায় জোরদার, ঋণ পরিশোধে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করা এবং ব্যাংক খাতের প্রয়োজনীয় সংস্কারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শিগগিরই এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান।
বুধবার ত্রৈমাসিক মুদ্রানীতি ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ডেপুটি গভর্নর জানান, খেলাপি ঋণ আদায় বাড়াতে ইতোমধ্যে ‘বুলেট পেমেন্ট’ ও ‘ওয়ান-টাইম এক্সিট’-এর মতো বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও আগামী ১৮ মাসের মধ্যে ব্যাংক খাতে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ কমানোর পাশাপাশি ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সংস্কার করাও পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ক্ষেত্রে ঋণ আদায় কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি ঋণ পরিশোধের সুযোগ ও কাঠামোতেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উৎপাদনেও নজর
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অর্থনীতির উৎপাদনশীল খাতগুলোকে সচল রাখার বিষয়টিও বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিনির্ধারণে গুরুত্ব পাচ্ছে বলে জানান ডেপুটি গভর্নর।
তিনি বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে নীতিগত সুদহার কমানোর প্রবণতা দেখা গেলেও বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বর্তমান ৮ দশমিক ৫ শতাংশ পলিসি রেট এখনো কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
ড. হাবিবুর রহমান বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে শুধু ঋণ ও তারল্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনলেই হবে না। এর পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাজারে স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।
উৎপাদন ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় এসব বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে অর্থনীতির উৎপাদনশীলতা বজায় রাখা এবং ব্যাংক খাতের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠা—এই তিনটি বিষয়কে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়াই আগামী সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।



