tanaka
প্রচ্ছদসারাদেশমিছিলের প্রস্তুতিকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ আটক ১৫

মিছিলের প্রস্তুতিকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ আটক ১৫

পাবনা শহরে মিছিলের প্রস্তুতিকালে সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহাবসহ ১৫ নেতাকর্মীকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে পাবনা শহরের আব্দুল হামিদ রোডের ইন্দিরা মোড় এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। তারা শহরে নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে মাইক্রোবাসে করে এসে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

আটক ১৫ জন

আটক ব্যক্তিরা হলেন—সুজানগর পৌর এলাকার মথুরাপুরের মৃত জাহেদ আলী শেখের ছেলে আব্দুল ওয়াহাব (৬২), তার সহযোগী মাস্টারপাড়ার আব্দুর রশিদ শেখের ছেলে মো. রাব্বি (২৩), মথুরাপুর এলাকার ইকবাল মিয়ার ছেলে মিথুন মিয়া (৩০), নাজির প্রামাণিকের ছেলে মো. হৃদয় (২০), এনামুল হকের ছেলে ফয়সাল (১৮), সাদেক সরদারের ছেলে আরাফাত হোসেন শুভ (১৮), সুবাহান প্রামাণিকের ছেলে শিমুল প্রামাণিক (১৬), মাহাতাব প্রামাণিকের ছেলে মিজান প্রামাণিক (১৮), ওসমান খাঁর ছেলে আলহাজ্ব খাঁ (২৪), দুর্গাপুর এলাকার আব্দুল আলীম শেখের ছেলে নাজমুল হাসান (১৮), আব্দুল মান্নানের ছেলে মতিউর রহমান (৩২), নারায়ণপুর এলাকার নবীর উদ্দিন শেখের ছেলে রঞ্জু শেখ (১৭), সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের নতুন গোয়ালবাড়িয়া এলাকার খলিল প্রামাণিকের ছেলে সাবিক (১৯) এবং সাগর প্রামাণিকের ছেলে নাজমুল হোসেন (১৯)।

‘নাশকতার পরিকল্পনা ছিল’

পাবনা জেলা ডিবি পুলিশের ওসি আব্দুস সালাম বলেন, ‘তারা শহরের মধ্যে নাশকতার পরিকল্পনা নিয়েছিল। নাশকতার অংশ হিসেবেই মাইক্রোবাসে করে এসে শহরের মধ্যে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়েছে।’

তিনি জানান, আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পাবনা সদর থানায় পাঠানো হয়েছে।

তৃতীয়বার আটক আব্দুল ওয়াহাব

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো আটক হলেন আব্দুল ওয়াহাব। এর আগে ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি মথুরাপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। পরে পুলিশ ভ্যানে তোলার সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেন। এ ঘটনায় আট পুলিশ সদস্য আহত হন বলে জানায় পুলিশ।

ঘটনার তিন দিন পর ৫ ফেব্রুয়ারি আব্দুল ওয়াহাবকে আবারও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে জামিনে মুক্তি পেয়ে তিনি সুজানগর এলাকায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চালিয়ে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেন বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এরপর চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল দিবাগত রাতে মথুরাপুরে অভিযান চালিয়ে আব্দুল ওয়াহাবসহ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ২১ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। কয়েক সপ্তাহ পর তারা জামিনে মুক্তি পান।

‘ভারতে পালানোর পরিকল্পনা ছিল’

পাবনা সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘বড় ধরনের নাশকতার জন্যই তারা মাইক্রোবাসে করে পাবনা শহরে এসেছিল। এখানে নাশকতা করে সঙ্গে সঙ্গেই ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও করেছিল তারা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে আগে থেকেই তাদের পরিকল্পনার গোপন তথ্য ছিল। ফলে জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সমন্বয়ে তাদের আটক করা হয়েছে।’

আটকদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।