tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদজাতীয়দেড় শতাধিক সাবেক আমলাকে খুঁজছে গোয়েন্দারা

দেড় শতাধিক সাবেক আমলাকে খুঁজছে গোয়েন্দারা

১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের শেষ দিকে, আওয়ামী লীগের সমর্থনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘জনতার মঞ্চ’ ব্যানারে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। সচিবালয়সহ সারা দেশে কর্মরত কয়েকশ সরকারি কর্মকর্তা এই আন্দোলনে সমর্থন জোগান। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করে ক্ষমতা ছেড়ে দেন।

‘জনতার মঞ্চের’ ফর্মুলা এবার পুনরায় কাজে লাগাতে চায় আওয়ামী লীগ। এ লক্ষ্যে দলটির তত্ত্বাবধানে নতুনভাবে ‘মঞ্চ ৭১’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠিত হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্র বলছে, এতে দেড় শতাধিক সাবেক ও বর্তমান আমলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যুক্ত হয়েছেন। ২৮ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) তাদের গোলটেবিল আলোচনায় মব সৃষ্টির ঘটনা ঘটলে কয়েকজনকে পুলিশে দেওয়া হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জনতার মঞ্চে যুক্ত সাবেক সরকারি কর্মকর্তাদের নামে যে ফৌজদারি মামলা হয়েছিল, তা আবারও চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়কে সলিসিটর উইংয়ের মাধ্যমে মামলা পুনরায় চালু করতে বলা হয়েছে। ২০৯ জনের একটি তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে। সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান ও ভূঁইয়া মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ছাড়াও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর এবং সাবেক সচিব সিরাজ উদ্দিন আহমেদসহ দেড় শতাধিক আমলা এই মঞ্চে অংশ নিয়েছিলেন।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, জনতার মঞ্চের সক্রিয় কুশীলবরা নতুন নামে মাঠে নামতে চাইছে। ‘মঞ্চ ৭১’ সেই প্রচেষ্টার অংশ। ইতোমধ্যে এর সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, “সরকারি কর্মচারীদের জন্য রাজনৈতিক মঞ্চে অংশ নেওয়া একেবারেই অযোগ্য। এ ধরনের মঞ্চে যোগদানের মাধ্যমে তারা নিঃসন্দেহে সরকারদ্রোহী কার্যক্রমে লিপ্ত হন। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের সিদ্ধান্ত।”

২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ জনতার মঞ্চ মামলাটি প্রত্যাহার করেছিল। বর্তমানে তা পুনরায় চালু করে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে সাবেক সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান ও ভূঁইয়া মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ জানিয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অভিযানের কাজ চলমান রয়েছে।

জনপ্রশাসন বিশ্লেষক ও সাবেক আমলা মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া বলেন, “জনতার মঞ্চ প্রশাসনের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষত। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরিবিধি লঙ্ঘন করে সরকারবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন, যা প্রজাতন্ত্রের চাকরিতে থাকা অবস্থায় একটি গুরুতর অপরাধ।”