সেন্ট্রাল লন্ডনে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে এক লাখেরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছে। ডানপন্থি নেতা টমি রবিনসনের আহ্বানে শনিবার বিকেল তিনটার পর হোয়াইটহলে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, খবর জানিয়েছে বিবিসি।
‘ইউনাইট দ্য কিংডম’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন নেতা বক্তব্য রাখেন। ভিডিও বার্তার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অংশ নেন ইলন মাস্ক। তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, “কিছু না কিছু করতে হবে; পার্লামেন্ট ভেঙে নতুন ভোটের ব্যবস্থা করতে হবে।”
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা ইংল্যান্ড ও ব্রিটেনের পতাকা হাতে নিয়ে মিছিল করেন। সামাজিক মাধ্যমে রবিনসন লিখেছেন, “লন্ডনের কেন্দ্রে লাখ লাখ মানুষ একত্রিত হয়েছে, আমরা আমাদের স্বাধীনতার জন্য একসাথে।”
লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, অন্তত নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ বলেছে, কিছু বিক্ষোভকারী তাদের উপর কাচের বোতল, লোহার পাইপ ও বিয়ার ক্যান নিক্ষেপ করেছে।
একই সময়ে কাছাকাছি ‘স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজম’ শীর্ষক পাল্টা প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ অংশ নেন। ব্রিটিশ পুলিশ দিনভর পরিস্থিতি সামলাতে এক হাজার ৬০০ এর বেশি অফিসার মোতায়েন করে।
দুপুর নাগাদ টেমস নদীর দক্ষিণ পাশে লাখো বিক্ষোভকারী জমায়েত হন এবং পরে পার্লামেন্ট ভবনের দিকে মিছিল করেন। মিছিলে যুক্তরাজ্যের ইউনিয়ন জ্যাক, ইংল্যান্ডের সেন্ট জর্জ ক্রস, মার্কিন ও ইসরায়েলি পতাকা দেখা যায়। অনেকে ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ টুপি পরেছিলেন।
বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং বহন করা প্ল্যাকার্ডে লেখা থাকে ‘ওদের ফেরত পাঠাও’। অনেক পরিবার শিশুদের সঙ্গে এনেছেন।
অভিবাসন এখন ব্রিটেনে অর্থনৈতিক সংকটের চেয়ে বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। চলতি বছর ২৮ হাজারের বেশি অভিবাসী ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পার হয়ে দেশে পৌঁছেছে, যা রেকর্ড সংখ্যক।
লাল-সাদা ইংল্যান্ডের পতাকা লন্ডনের রাস্তায়, দেয়ালে এবং সড়কে দেখা যায়। সমর্থকদের চোখে এটি জাতীয় গৌরবের প্রতীক, তবে বর্ণবাদবিরোধী কর্মীদের মতে, এটি বিদেশিদের প্রতি শত্রুতার বার্তা বহন করে।



