tanaka
প্রচ্ছদখেলাঋণের চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটারদের বেতন কমল

ঋণের চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটারদের বেতন কমল

বিশ্ব ক্রিকেট যখন বাণিজ্যিক বিস্তারের সঙ্গে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে, তখন উল্টো পথে হাঁটতে হচ্ছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজকে (সিডব্লুআই)। দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট, আইসিসির ঋণের শর্ত এবং ক্রমবর্ধমান পরিচালন ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্যারিবীয় ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

বোর্ডের এক ঘোষণায় জানানো হয়েছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের রিটেইনার ফি বা কেন্দ্রীয় চুক্তির বেতন ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ব্যাপক বিস্তারের সময়ে এই সিদ্ধান্ত ক্যারিবীয় ক্রিকেটের জন্য নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আর্থিক সংকট ক্রমেই গভীর হয়েছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের। বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে শুধু ঘরোয়া ক্রিকেটের ভ্রমণ ও আবাসন বাবদ প্রায় ৮ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হয়েছে। বিপরীতে এ খাত থেকে উল্লেখযোগ্য স্পনসরশিপ বা আর্থিক সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। ফলে বিপুল পরিচালন ব্যয়ের ভার বহন করতে গিয়ে এখন নগদ অর্থের সংকটে পড়েছে বোর্ড।

পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান নির্বাহী ক্রিস ডেহরিং। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এটি আদর্শ কোনো পদক্ষেপ নয়, তবে আর্থিক স্থিতিশীলতার পথে এগোতে এটা করা প্রয়োজন।’

বোর্ডের ব্যয়ের কাঠামো সম্পর্কে ডেহরিং বলেন, ঐতিহাসিকভাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ঘরোয়া টুর্নামেন্টগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক, উন্নয়নমূলক ও সিনিয়র পর্যায়ের পুরুষ ও নারী—সব ধরনের জাতীয় দল ও টুর্নামেন্টের ব্যয় ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজই বহন করে আসছে। এর মধ্যে ক্রিকেটারদের বেতন, ম্যাচ ফি, বিমানভাড়া, হোটেল এবং টুর্নামেন্ট আয়োজনের খরচও রয়েছে।

তার ভাষায়, দীর্ঘদিনের এই ব্যবস্থা এখন আর আর্থিকভাবে টেকসই নয়।

বোর্ডের আর্থিক সংকটের আরেকটি বড় কারণ আইসিসির কাছ থেকে নেওয়া ঋণ। চলতি বছরের জুলাইয়ে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলারের ঋণ অনুমোদন করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। আগামী এক বছরে তিন ধাপে এই অর্থ পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে ঋণের সঙ্গে আইসিসির পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ও আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা জুড়ে দেওয়া হয়েছে। সেগুলো পূরণ করতে ব্যয় সংকোচনের পথ বেছে নিতে হয়েছে বোর্ডকে।

বেতন কমানোর সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের কেন্দ্রীয় চুক্তির মেয়াদ ১২ মাস থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটারদের রিটেইনার চুক্তির মেয়াদ কমিয়ে সাত মাস করা হয়েছে।

একই সঙ্গে পরিচালন ব্যয় কমাতে চলতি বছরের পুরুষদের সুপার৫০ ও নারীদের টি-টোয়েন্টি ব্লেজ টুর্নামেন্ট স্থগিত করেছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

তবে ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক কমানোর সিদ্ধান্তটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ক্যারিবীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। বিপুল পারিশ্রমিক ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির সুযোগ থাকায় অনেক ক্রিকেটারই জাতীয় দলের কেন্দ্রীয় চুক্তির তুলনায় ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন ক্যারিবীয় তারকা কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে থেকে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিয়মিত খেলছেন। এমন পরিস্থিতিতে বোর্ডের নতুন বেতন কাঠামো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের প্রতি খেলোয়াড়দের আগ্রহে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। একই সঙ্গে আর্থিক সংকট কাটাতে নেওয়া এই পদক্ষেপ ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোকে কতটা স্থিতিশীল করতে পারে, সেটিও নজরে থাকবে।